আসলে প্রতি মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিটিকে শাস্ত্র প্রদোষ ব্রত হিসেবে নির্ধারিত করেছে। প্রদোষ ব্রত নামকরণটির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ব্রত উদযাপন এবং পূজার্চনার সময়কালের ইঙ্গিতটি! প্রদোষ কাল অর্থে সন্ধ্যাকালকে বোঝানো হয়। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে সূর্যাস্তের সময় থেকে পরবর্তী ৯০ মিনিট পর্যন্ত প্রদোষকাল বলে গণ্য করা উচিৎ। প্রদোষ ব্রত সপ্তাহের যে কোনও বারে পড়তে পারে। সেই বার অনুযায়ী প্রদোষ ব্রতকে নানা ভাগে করা হয়। আজ প্রদোষ ব্রত পড়েছে শনিবারে, তাই একে বলা হচ্ছে শনি প্রদোষ ব্রত।
advertisement
তবে আজ ত্রয়োদশী তিথি শুরু হচ্ছে সন্ধ্যা ৭টার পরে। তাই প্রদোষ ব্রত উদযাপন করতে হবে সন্ধ্যা ৭টা ১৭ মিনিট থেকে রাত ৯টা ০৩ মিনিটের মধ্যে।
বলা হয়, প্রদোষ ব্রতের মধ্যে শনি প্রদোষ ব্রতের মহিমা সর্বাধিক। পুরাণ আমাদের জানায় যে শনিদেবের শক্তির কাছে হার মেনেছিলেন স্বয়ং শিবও! কথাতেই বলে- শনির দৃষ্টি! তা যাঁর উপরে পড়ে, তার জীবনে দুর্ভাগ্য আসে!
পুরাণ অনুযায়ী, শনি একদা শিবের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য কাশী এসেছিলেন। খবর পেয়েই শিব তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়ন গঙ্গার তলায়, যাতে শনির দৃষ্টি তাঁকে স্পর্শ না করে! একথা জানতে পেরে শনিদেব বলেন যে তিনি দেবাদিদেবের দিকে তাকাবেন না! তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য শনিদেব কথা দেন- যে ভক্ত শনিবারে প্রদোষ ব্রত উদযাপন করে সপরিবার শিবের আরাধনা করেন, তার উপরে কখনও বক্রী হবেন না তিনি!
এছাড়া ব্রতকথা আমাদের জানায় যে এই শনি প্রদোষ ব্রত করেই এক অপুত্রক দম্পতি পুত্রসুখ লাভ করেছিলেন। এই ঘটনা স্মরণে রেখে সন্ধ্যাকালে ওম উমা সহিত শিবায় নমঃ মন্ত্র ১০৮ বার জপ করতে হবে।
যথাবিহিত অভিষেকের সঙ্গে শিবের পূজা করতে হবে।
পূজা সমাপনান্তে দীপ এবং ধূপ সহযোগে আরতি করতে হবে।
যদি যজ্ঞের আয়োজন করা হয়, সেক্ষেত্রে অগ্নিতে ক্ষীর আহূতি দেওয়া অবশ্য কর্তব্য।
যজ্ঞ সমাপনান্তে সাধ্যমতো ব্রাহ্মণভোজন শাস্ত্রীয় বিধান।
