আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরান জড়িত যুদ্ধে তৈরি হওয়া এনার্জি সঙ্কটের কারণে কি সারা বিশ্বের দেশগুলো আবার Covid-এর মতো ‘শাটডাউন’ দেখতে পাবে? প্রশ্ন এখন সেখানেই ৷ ‘এনার্জি লকডাউন’ শব্দটা সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, আর ইউজাররা ভাবছে, চলমান সংঘাতের মধ্যে তাদের দেশও কি পরবর্তী এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে কী না?
advertisement
কয়েকটি দেশ ঘোষণা করেছে নানা রকমের বিধিনিষেধ, যাতে জ্বালানি, গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করা যায়, কারণ বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ এখনও ব্যাহত হচ্ছে, আর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের অবাধ চলাচল আর নেই। যদিও একে ‘লকডাউন’ বলা হচ্ছে না, যেমনটা ২০২০ সালের কোভিড মহামারির সময় হয়েছিল ৷ ইন্টারনেটে এখন ‘এনার্জি লকডাউন’ শব্দটা ব্যবহার করা হচ্ছে।
কেন ফের ট্রেন্ডিং ‘লকডাউন’?
ভারতে ফের ট্রেন্ডিং সার্চের তালিকায় উঠে এসেছে ‘লকডাউন’। কিন্তু ঠিক চার বছর পরে হঠাৎ কেন আবার এই শব্দের অবতারণা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে করোনা আতঙ্ক বা চার বছরের বর্ষপূর্তি নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচিত এই শব্দ।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই নতুন করে সেই ভয়ঙ্কর দিনগুলির স্মৃতি ভেসে উঠেছে আমজনতার মনে। অবরুদ্ধ হরমুজ় প্রণালী ও যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সঙ্কট তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। ফলে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে, এই ধরনের সঙ্কট কি আবার লকডাউনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে? উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদির মুখে কোভিডকালের প্রসঙ্গও। করোনাকালের কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সকলের এখন একজোট হয়ে সব রকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন, ঠিক যেমনটা আমরা কোভিডের সময়ে করেছিলাম।’ দেশে এলপিজি-সঙ্কট পরিস্থিতি বোঝাতেই এই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনেক দেশ ইতিমধ্যেই অয়েল রেশনিং করছে। জাপানে জ্বালানি রেশনিং চালু রয়েছে। কিছু দেশে জ্বালানি ভাউচার দেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়াতেও রেশনিং চলছে। বাংলাদেশ, ফিলিপিন্স ও শ্রীলঙ্কায় পেট্রোলের জন্য পাম্পগুলিতে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া সরকার সে দেশের জনগণকে অহেতুক ঘোরাফেরা করতে নিষেধ করেছে। ভারতের ৮০% তেল আসে হরমুজ প্রণালী থেকে। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক সঙ্কটে রয়েছে। তেলের অপ্রতুলতা সেই সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
