বর্তমান যে বন্দেভারত ট্রেন চলে সেটির তুলনায় স্লিপার বন্দেভারত অনেকটাই আলাদা। এতে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হল সামনের অংশটি (নোজ)। এটিকে এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে পশুর সঙ্গে ধাক্কা লাগলেও ট্রেনের শক্তি বা স্থিতিশীলতা একেবারেই নষ্ট না হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই ট্রেনের অন্যান্য পরিবর্তনগুলো—
advertisement
বর্তমানে বন্দেভারত চেয়ারকারের ৮২টি পরিষেবা চালু রয়েছে। যেহেতু সেগুলো সবই চেয়ারকার, আর নতুনটি স্লিপার ট্রেন, তাই এতে অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রথম বড় পরিবর্তন হল—স্লিপার কোচ হওয়ার কারণে এর ওজন বর্তমান বন্দেভারতের তুলনায় প্রায় এক টন বেশি। কারণ এতে বার্থ বসানো হয়েছে। বার্থে ওঠানামার জন্য আলাদা ধরনের সিঁড়িও লাগানো হয়েছে।
ওজন বেশি হওয়ায় স্প্রিংয়ের ওপর চাপ পড়বে, তাই প্রতিটি কোচে ব্যবহৃত স্প্রিং আরও মোটা ও শক্ত করা হয়েছে, যাতে যাত্রা আরামদায়ক হয়। যেহেতু এই ট্রেনটি সেমি হাই-স্পিড, তাই সাধারণ ট্রেনের তুলনায় এর গতি অনেক বেশি। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার। বন্দেভারত ট্রেনের সামনে অনেক সময় পশু চলে আসে এবং ইঞ্জিনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহুবার ট্রেন থামাতেও হয়। এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই স্লিপার বন্দেভারতের নোজ (সামনের অংশ) আগের তুলনায় আরও বেশি মজবুত করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে পশুর সঙ্গে ধাক্কা লাগলেও ক্ষতি একেবারে কম হয় বা না হয়।
আরও পড়ুন- ঘরে আগুন, দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু ৩৪-এর মহিলা ইঞ্জিনিয়ারের! বেঙ্গালুরুতে বাড়ছে রহস্য
এছাড়াও নোজের নকশা তৈরির সময় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা হয়েছে, যাতে পশুর সঙ্গে সংঘর্ষের পরেও ট্রেনের এনার্জির ওপর কোনো প্রভাব না পড়ে এবং গতি ব্যাহত না হয়। বন্দে ভারত চেয়ারকার ও স্লিপার ট্রেনের গতিতে কোনও ধরনের পরিবর্তন করা হয়নি। দুটি ট্রেনই ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার গতির জন্য নকশা করা হয়েছে এবং এদের সর্বোচ্চ অপারেশনাল গতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। অর্থাৎ, রুট বা সেকশন অনুযায়ী দুই ধরনের ট্রেনই একই গতিতে চলতে সক্ষম।
বন্দেভারত চেয়ারকার ট্রেন ৮, ১৬ এবং ২০ কোচের হয়ে থাকে। কিন্তু যে স্লিপার বন্দেভারত ট্রেনে ১৬টি কোচ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি থার্ড এসি, ৪টি সেকেন্ড এসি এবং ১টি ফার্স্ট এসি কোচ। এই ট্রেনে মোট ৮২৩ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন।
যাত্রীদের জন্য এতে আরামদায়ক ও নরম বার্থ, কোচগুলির মধ্যে স্বয়ংক্রিয় দরজা ও ভেস্টিবিউল, উন্নত সাসপেনশন ব্যবস্থা এবং কম শব্দের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার ফলে যাত্রা আরও বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। গুয়াহাটি–কলকাতা রুটে থার্ড এসি ভাড়া রাখা হয়েছে ২৩০০ টাকা, সেকেন্ড এসি ৩০০০ টাকা এবং ফার্স্ট এসি ৩৬০০ টাকা। আগামী ৬ মাসের মধ্যে ৮টি বন্দেভারত স্লিপার ট্রেন চালু করা হবে এবং বছরের শেষ পর্যন্ত মোট ১২টি ট্রেন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে রেলের।
