মৃত পি জয়রাজ এবং তাঁর ছেলে বেনিকস সাথাকুলামে একটি মোবাইলের দোকান চালাতেন৷ ২০২০ সালের ১৯ জুন করোনা অতিমারির সময় লকডাউনে বেঁধে দেওয়া সময়সীমার বাইরে দোকান খুলে রাখার অভিযোগে জয়রাজ এবং তাঁর ছেলেকে তুলে নিয়ে যায় সাথনকুলাম থানার পুলিশ৷ অভিযোগ থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশি হেফাজতেই তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয়৷ পরে একাধিক ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাও করে পুলিশ৷ মারধরে গুরুতর আহত জয়রাজের ছেলে বেনিকস ২২ জুন মারা যান৷ একদিন পরে মৃত্যু হয় তাঁর বাবা জয়রাজেরও৷ যদিও পুলিশ যে অভিযোগে তাঁদের থানায় নিয়ে যায়, সেই অভিযোগও পরে মিথ্যে বলে প্রমাণিত হয়৷
advertisement
এই ঘটনায় দেশ জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে৷ এ দিন রায় দিতে গিয়েও এই ঘটনাকে বিরলতম বলে আখ্যা দেন বিচারক জি মুথুকুমারন৷ তিনি বলেন, যে পুলিশ আধিকারিকদের উপরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব, তাঁরাই ওই বাবা এবং ছেলেকে বেআইনি ভাবে বেধড়ক মারধর করেন৷ এমন কি, মৃত জয়রাজ এবং তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে যে কোনও অপরাধের রেকর্ড ছিল না, তাও মনে করিয়ে দিয়েছেন বিচারক৷ পাশাপাশি, অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের মৃত জয়রাজের পরিবারকে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷
এই ঘটনায় মোট ১০ জন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পদক্ষেপ করা হয়৷ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় রাজ্য সরকার৷ অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ৩৪২, ২০১, ১৮২, ১৯৩, ২১১, ২১৮ সহ একাধিক ধারায় মামলা করে সিবিআই৷
এ দিন ৯ জন পুলিশকর্মীকে মৃত্যদণ্ডের শাস্তি দিতে গিয়ে বিচারক এই ঘটনাকে ক্ষমতার চূড়ান্ত আস্ফলন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷ বিচারক বলেন, তামিলনাড়ুতে অনেক সৎ পুলিশ অফিসার আছেন৷ এই রায়ে সেই সমস্ত সৎ পুলিশকর্মীদের মনে কোনও ভীতির সৃষ্টি হবে না বলেও দাবি করেছেন বিচারক৷
জানা গিয়েছে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের মধ্যে ১ জন ইনস্পেক্টর, ২ জুন সাব ইনস্পেক্টর, ২ জন হেড কনস্টেবল, ৪ জন সাব ইনস্পেক্টর এবং একজন স্পেশ্যাল সাব ইন্সপেক্টর ছিলেন৷ যদিও বিচার চলাকালীন অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়৷ বাকি ৯ জনকেই মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দিয়েছেন বিচারক৷
