এ দিন সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলা শুনানি চলাকালীন এসআইআর-এর কাজে অফিসার নিয়োগ নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ শুরু হয়৷ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো ৮৫০৫ অফিসারের তালিকা কমিশনকে দিয়েছিল রাজ্য সরকার৷ যদিও সেই অফিসারদের যোগ্যতা নিয়ে এ দিন প্রশ্ন তোলে কমিশন৷ তারা অভিযোগ করে, এই অফিসারদের অধিকাংশই ইআরও হিসেবে কাজ করার যোগ্য নন৷ পাল্টা অন্য রাজ্য থেকে অথবা পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রুপ এ পদমর্যাদার অফিসারদের ইআরও হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টে দেয় কমিশন৷
advertisement
শেষ পর্যন্ত দু পক্ষের চাপানউতোরে বিরক্ত হয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, এসআইআর-এর বাকি নথি যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করতে জুডিশিয়াল অফিসার অথবা জেলা বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের নিয়োগ করতে হবে৷ তাঁদের নজরদারিতেই শেষ হবে নথি যাচাই প্রক্রিয়া৷ এই কোয়াসি জুডিশিয়াল অফিসারদের নথি যাচাইয়ের কাজে সাহায্য করবেন মাইক্রো অবজারভার এবং অবজারভাররা৷ কীভাবে এই গোটা প্রক্রিয়া চলবে, তার রূপরেখা চূড়ান্ত করার জন্য আগামিকাল শনিবার মুখ্যসচিব, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সহ সংশ্লিষ্ট সবপক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি৷ জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়ার জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷
নতুন করে এই জুডিশিয়াল অফিসারদের নজরদারিতে নথি যাচাইয়যের প্রক্রিয়া শুরু হলে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন স্বয়ং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি৷
সুপ্রিম কোর্ট জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করে নথি যাচাইয়ের নির্দেশ দিতেই কমিশনের আইনজীবী আর্জি জানান, যে ভোটারদের নথি যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেই ভোটারদের নাম সমেত একটি তালিকা প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হোক৷ কমিশনের এই আবেদনে সাড়া দেয় শীর্ষ আদালত৷ শীর্ষ আদালত জানায়, ২৮ তারিখ যে ভোটার তালিকা কমিশন প্রকাশ করবে সেটিকে চূড়ান্ত তালিকা বলা যাবে না৷ ভোটারদের সব নথি যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন৷
সহ প্রতিবেদন- অর্ণব হাজরা
