ওই সূত্রের দাবি, ওম বিড়লা মনে করেন একবার যখন বিরোধীরা তাঁর চেয়ারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন, তখন নৈতিকতার জায়গা থেকেই বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন৷ নিজের এই সিদ্ধান্ত এখনও পর্যন্ত ওম বিড়লা অনড় রয়েছেন৷ এমন কি, শাসক শিবির অথবা বিরোধী পক্ষের নেতাদের অনুরোধেও তিনি সিদ্ধান্ত বদল করবেন না বলেই খবর৷ মঙ্গলবার তাঁর সঙ্গে বিরোধী শিবিরের যে নেতারা দেখা করতে গিয়েছিলেন, তাঁদেরও একই বার্তা দিয়েছেন ওম বিড়লা৷
advertisement
আগামী ৯ মার্চ সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় ভাগ শুরু হওয়ার কথা৷ সেদিনই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে লোকসভায় আলোচনা হতে পারে৷
বিরোধীদের সঙ্গে পক্ষপাতমূলক আচরণ করার অভিযোগে ওম বিড়লার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতৃত্ব৷ এই অভিযোগেই ওম বিড়লার বিরুদ্ধে সংবিধানের ৯৪(সি) ধারা অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে কংগ্রেস৷ সেই প্রস্তাবে ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বারংবার পক্ষপাতমূলক আচরণ করার অভিযোগ আনা হয়েছে৷
কংগ্রেসের আনা ওই প্রস্তাবে ১২০ জন বিরোধী শিবিরের সাংসদ সই করেছেন৷ তাঁদের অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি সহ বিরোধী শিবিরের সাংসদদের লোকসভায় বক্তব্য রাখার জন্য তুলনামূলক ভাবে কম সময় বরাদ্দ করেন অধ্যক্ষ ওম বিড়লা৷ শুধু তাই নয়, কংগ্রেসের মহিলা সাংসদদের উদ্দেশ্যে বিজেপি-র নিশিকান্ত দুবে কংগ্রেসের মহিলা সাংসদদের উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করলেও কোনও ব্যবস্থা নেননি অধ্যক্ষ৷ বরং বিরোধী শিবিরের আট জন সাংসদকে তিনি সাসপেন্ড করে দিয়েছেন৷
কংগ্রেসের অভিযোগ, রাখঢাক না করেই বিজেপি তথা এনডিএ সাংসদদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন ওম বিড়লা৷ তাঁর এই ভূমিকার জন্যই বিরোধী শিবিরের সাংসদরা লোকসভায় বক্তব্য রাখার গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠছে৷ বেনজির পরিস্থিতিতেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হল বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস সাংসদ মাণিককাম টেগোর৷
কংগ্রেসের আনা এই অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা না থাকলেও এই প্রস্তাবের উপরে আলোচনা শুরু হলে কংগ্রেস এবং বিরোধী শিবিরের সাংসদ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের মতামত লোকসভায় জানাতে পারবেন৷ ফলে এই অনাস্থা প্রস্তাব রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে৷
