কিন্তু ছ বছর পর তাঁদের সেই আশা দুঃস্বপ্নের মতো শেষ হল৷ জানা গেল, ২০২০ সালেই ওই শিশুটিকে তার নিজের কাকা এবং কাকিমা খুন করে দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ের পাশে পুঁতে দিয়েছিল৷
এনডিটিভি-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৬ অগাস্ট নিখোঁজ হয়ে যায় প্রিন্স নামে ওই শিশুটি৷ তার ডাক নাম ছিল তিল্লু৷ বাগানে খেলতে খেলতেই আচমকা উধাও হয়ে যায় সে৷ অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও শিশুটির কোনও খোঁজ পায়নি তার পরিবার এবং পুলিশ৷ ২০২১ সালে শিশুটির পরিবার রাজস্থান হাইকোর্টে একটি হেবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করে৷ আদালতের নির্দেশে আরও তৎপরতার সঙ্গে শিশুটির খোঁজে তদন্ত শুরু করে পুলিশ৷
advertisement
তবে শিশুটিকে খুঁজে বের করা পুলিশের কাছেও কঠিন ছিল৷ গত কয়েক বছরে অন্তত ৭ জন তদন্তকারী অফিসার বদলও হয়৷ শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টও বিরক্ত হয়ে যে কোনও মূল্য শিশুটিকে খুঁজে বের করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়৷ শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পর শেষ পর্যন্ত রাজস্থান পুলিশ রহস্য উদঘাটনে সফল হয়৷
তদন্তে উঠে আসে, প্রিন্সের কাকু অনিল এবং কাকিমা কৃষ্ণা প্রতিশোধ নিতেই শিশুটিকে খুন করে দেহটি এক্সপ্রেসওয়ের ধারে পুঁতে দেয়৷ শিশুটির দেহের খোঁজে এক্সপ্রেসওয়ের পাশে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে মাটি খুঁড়তে শুরু করেছে পুলিশ৷ তল্লাশিতে সহায়তার জন্য দিল্লি থেকে গ্রাউন্ড পেনেট্রেশন রাডার (জিপিআর) মেশিন নিয়ে আসা হয়েছে৷
ওই জিপিআর মেশিনেই মাটির প্রায় ৯ মিটার (প্রায় ৩০ ফুট) গভীরে শিশুটির দেহ থাকতে পারে বলে সিগন্যাল ধরা পড়ে৷ এই সূত্র ধরেই দুটি জেসিবি মেশিন গত তিন দিন ২৪ ঘণ্টা ধরে ওই জায়গায় মাটি খুঁড়তে শুরু করেছে৷ কিন্তু প্রায় ১৫ ফুট মাটি খুঁড়ে ফেলার পরেও শিশুটির দেহের খোঁজ মেলেনি৷
প্রিন্সের অভিযুক্ত কাকু এবং কাকিমাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ জেরা নিজেদের অপরাধ স্বীকারও করেছে তারা৷ আগামী ১ মার্চ পর্যন্ত দু জনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷
মৃত প্রিন্সের ভাইবোনদের দাবি, সে নিখোঁজ হওয়ার পর অভিযুক্ত অনিল এবং কৃষ্ণাও তাকে খোঁজাখুঁজি করেছিল৷ প্রিন্স বা তিল্লুর বড় বোন তার মৃত্যু সংবাদে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে৷ প্রিন্সের দিদি জানিয়েছে, মাঝেমধ্যেই প্রিন্সকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে ঘোরাতে নিয়ে যেত তাদের কাকু অনিল৷ নিজের কাকুই যে এমন কাণ্ড করতে পারে, তা তারা কল্পনাও করতে পারছএ না৷
ছেলের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পেয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি দুবাই থেকে ভারতে ফিরে আসেন প্রিন্সের বাবা জগমোহন বাইরওয়া৷ এনডিটিভি রাজস্থানকে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, যে কোনও অবস্থাতেই হোক না কেন, আমার ছেলের দেহের খোঁজ পেলেই আমি খুশি হব৷ আমার পুলিশের উপরে ভরসা আছে এবং আমি বিচার পাবো বলে নিশ্চিত৷
যে বাগান থেকে তিল্লু নিখোঁজ হয়েছিল, সেটি এখন ফাঁকা পড়ে থাকে৷ মুখ ভার করে ওই বাগানের পাশে মাঝেমধ্যে এসে দাঁড়ায় তিল্লুর বন্ধুরা৷ আর ওই বাগানে আছে একটি নিম গাছ৷ বেঁচে থাকলে তিল্লুর যা বয়স হত, ওই নিম গাছটির বয়সও তাই!
