মাত্র দশদিন আগেই মহারাষ্ট্রের নাগপুরে নিজের বাড়িতে ফিরেছিলেন পুরভেশ৷ পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নাগপুরে এসেছিলেন তিনি৷ ফ্লাইট লেফট্যান্যান্ট পুরভেশ ছাড়াও শুক্রবারের ঘটনায় স্কোয়াড্রন লিডার অনুজের মৃত্যু হয়েছে৷
২৮ বছর বয়সি পুরভেশ অবিবাহিত ছিলেন৷ নাগপুরেই পড়াশোনা এবং বড় হয়ে ওঠা তাঁর৷ পুরেভেশের বাবা বলেন, ‘ও যে অপারেশন সিঁদুরের অংশ ছিল, আমরা প্রথমে তা জানতামই না৷ অপারেশন সিঁদুর বন্ধ হওয়ার প্রায় ১৫ দিন পর আমাদের ও বিষয়টি জানিয়েছিল৷ অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ওর কাছে মোবাইল ফোনই ছিল না৷ ফলে ওই সময় ওর সঙ্গে আমরা যোগাযোগও করতে পারিনি৷’
advertisement
পুরভেশের বাবা আরও বলেন, ‘ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট হিসেবে যুক্ত থাকায় আমার ছেলে অত্যন্ত গর্ব বোধ করত৷ এক এক সময় ও যুদ্ধ বিমান কীভাবে এবং কত দ্রুত গতিতে ওড়ে সেই গল্প করত৷ নিজের সহকর্মীদের প্রতিও অগাধ সম্মান ছিল ওর৷’
এ দিন সকালে জোরহাটের বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে প্রশিক্ষণের জন্য এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানটি নিয়ে উড়েছিলেন পুরভেশ এবং অনুজ৷ কিন্তু আকাশে ওড়ার পর পরই বিমানটি নিখোঁজ হয়ে যায়৷ ৭.৪২ মিনিটে সুখোই যুদ্ধবিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷ জোরহাট বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে যুদ্ধবিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়৷ দুর্ঘটনায় বিমানের দু জন পাইলটেরই মৃত্যু হয়৷
সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণার মধ্যেই পুরভেশের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে৷ ওকে দেখে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত হওয়া উচিত৷ দেশসেবার যে স্বপ্ন ও দেখত, তা পূরণ হয়েছিল৷ কিন্তু যতদিন ধরে ও দেশসেবা করতে চেয়েছিল, ততদিন করতে পারল না৷ মাত্র চার বছর ও সেই সুযোগ পেল৷’
