মুকুল রায়ের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে। এক শোকবার্তায় তিনি জানান, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছিলেন মুকুল রায়। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূল স্তরের রাজনীতি সম্পর্কে গভীর বোঝাপড়া তাঁকে দলমত নির্বিশেষে সম্মান এনে দিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরিবারের সদস্য, অনুগামী এবং শোকাহত সকলের প্রতি সমবেদনা জানান কংগ্রেস সভাপতি।
advertisement
তাঁর কথায়, “প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মুকুল রায়ের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূল স্তরের রাজনীতি সম্পর্কে গভীর বোঝাপড়া তাঁকে দলমত নির্বিশেষে সম্মান এনে দিয়েছে।”
১৯৫৪ সালের ১৭ এপ্রিল জন্ম মুকুল রায়ের। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০০৬ সালে পাব্লিক অ্যাডমিনিসট্রেশন নিয়ে মাদুরাই কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ করেন। তবে শিক্ষাজীবনের গণ্ডি পেরোনোর আগেই রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে পা রাখেন মুকুল রায়। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে প্রথম সারির সংগঠক হিসেবে তাঁর পাশে ছিলেন মুকুল। এক সময় তিলজলার পার্টি অফিসেই সপরিবারে থাকতেন তিনি। জেলা থেকে শহর, ব্লক থেকে বুথ—সংগঠন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়। দলের ‘সেকেন্ড ইন কম্যান্ড’ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন মুকুল।
২০০১ সালে জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার প্রার্থী হয়ে পরাজিত হলেও থেমে থাকেননি। ২০০৬ সালে রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত হন। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ছিলেন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত সাংসদ পদে ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইউপিএ জমানায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় স্থান পান। প্রথমে জাহাজ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলান। ২০১২ সালে রেল বাজেট নিয়ে বিতর্কের জেরে দীনেশ ত্রিবেদীর ইস্তফার পর রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন মুকুল রায়।
২০১৫ সাল থেকে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এবং বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়-র সঙ্গে বৈঠকের জেরে তাঁকে ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড করে তৃণমূল। ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর রাজ্যসভার সদস্য পদ ছাড়েন তিনি। একই বছরের ৩ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের হয়ে সক্রিয় ভূমিকা নেন। ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি করা হয়।
তবে ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে মুকুল রায়ের প্রভাব কিছুটা কমে আসে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিক উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছেন তিনি। বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে কৌশলী সংগঠক হিসেবে তাঁর ভূমিকা দীর্ঘদিন স্মরণে থাকবে।
