তখনও অনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। ভিএস অচ্যুতানন্দনের মাঝপথে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়াই পরিষ্কার করে দিয়েছিল ছবিটা। কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বছর বাহাত্তরের পিনারাই বিজয়নের নামই ঘোষণা করল সিপিএম। এর সঙ্গে সঙ্গেই ফের মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল তিরানব্বই ছুঁই ছুঁই ভিএস অচ্যুতানন্দনের।
advertisement
রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করতে শুক্রবার তিরুঅনন্তপুরমের একে গোপালন ভবনে বৈঠক ডেকেছিল রাজ্য সিপিএম। বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রকাশ কারাতরাও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রের খবর, বৈঠকেই বিজয়নকে মুখ্যমন্ত্রী করা কথা ঘোষণা করেন ইয়েচুরি। যা শুনে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারেননি ভিএস। মাঝপথেই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। পরে ইয়েচুরি জানান, মুখ্যমন্ত্রী পদে অচ্যুতানন্দনকে বসাতে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাঁর বয়সই।
কেরলের রাজ্য-রাজনীতিতে অচ্যুতানন্দন ও বিজয়নের বিবাদ দীর্ঘদিনের। ২০০৬ থেকে এগারোয়, অচ্যুতানন্দনের মুখ্যমন্ত্রিত্বে সেই বিবাদ চরম আকার নেয়। একসময় দুই বর্য়ীয়ান নেতাকেই পলিটব্যুরো থেকে ছাঁটতে বাধ্য হয় দল। পরে বিজয়নকে ফেরানো হলেও ব্রাত্য থেকে যান ভিএস। কেন্দ্রীয় কমিটিতে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
রাজ্য রাজনীতিতে দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত বিজয়ন। টানা ১৬ বছর দলের রাজ্য সম্পাদক পদে ছিলেন। নয়ের দশকের মাঝামাঝি গায়ে দুর্নীতির দাগ লাগলেও, তা বিজয়নের রাজনৈতিক উত্থানের পথে বাধা হয়নি। অন্যদিকে বরাবরই দলের অন্যতম জনপ্রিয় জননেতা অচ্যুতানন্দন। তাঁর ক্যারিশমাতে ভর করেই বিধানসভার প্রচারে নেমেছিল সিপিএম।
বিজয়ন বাংলায় বাম-কংগ্রেস জোটের তীব্র বিরোধিতা করলেও, ভিএস সে পথে হাঁটেননি। বাংলায় দোস্তি করেও, কেরলে কুস্তির পক্ষে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ দু’মাসের প্রচারে কখনও বয়স বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি তাঁর সামনে। কিন্তু সেই বয়সই ফের একবার মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসতে দিল না ভেলিক্কাকাঠু শঙ্করণ অচ্যুতানন্দনকে।
