বিরোধীদের অভিযোগ, স্পিকার সরকারের নির্দেশে কাজ করছেন এবং রাহুল গান্ধি- সহ বিরোধী নেতাদের লোকসভায় কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় সপ্তাহেও সংসদের অচলাবস্থা কাটেনি, তার মধ্যেই মঙ্গলবার স্পিকারকে অপসারণের নোটিস জমা দেওয়া হয়।
advertisement
লোকসভায় কংগ্রেসের উপনেতা গৌরব গগৈ জানান, সংবিধানের ৯৪(সি) অনুচ্ছেদের অধীনে স্পিকারকে অপসারণের জন্য রেজোলিউশনের নোটিস লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি-সহ বিভিন্ন দলের প্রায় ১২০ জন সাংসদ এই নোটিসে সাক্ষর করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা যদিও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি।
তৃণমূলের এই সিদ্ধান্ত বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংসদীয় কৌশল নিয়ে মতভেদের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত। স্পিকারকে ঘিরে অনাস্থা প্রস্তাব প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অনাস্থা প্রস্তাব আনার আগে কংগ্রেসের উচিত ছিল লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন জানানো।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী’র প্রথাগত জবাব ছাড়াই রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাব পাশ হয় লোকসভায়। বিরোধীদের লাগাতার স্লোগান ও হট্টগোলের জেরে আগের দিন নির্ধারিত প্রধানমন্ত্রীর জবাব আর দেওয়া হয়নি। ওই দিন স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, তাঁর কাছে “নির্দিষ্ট তথ্য” ছিল যে বহু কংগ্রেস সাংসদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসনের দিকে এগোতে পারেন এবং “কোনও অপ্রত্যাশিত ঘটনা” ঘটতে পারে। সেই কারণেই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে না আসার অনুরোধ করেছিলেন বলে জানান স্পিকার।
তিন দফা মুলতুবির পর সভা শুরু হলে স্পিকার বলেন, যদি এমন কোনও ঘটনা ঘটত, তবে দেশের গণতান্ত্রিক পরম্পরা “চূর্ণ-বিচূর্ণ” হয়ে যেত। তবে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধি ভদ্র স্পিকারের এই বক্তব্যকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা” বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীকে আঘাত করার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পিকারের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছেন।
অনাস্থা নোটিসে লোকসভা থেকে বিরোধী দলের আট জন সাংসদকে গোটা অধিবেশনের জন্য “ইচ্ছামতো” সাসপেন্ড করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে’র প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধিকে নিয়ে করা মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়েছে, বিরোধীদের অভিযোগ সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
