বিক্ষোভে শামিল প্রতিবাদীদের দাবি, পাকিস্তানের কোনও শহরের নামে যে ব্যবসায়িক সংস্থার নামকরণ করা হয়েছে, ভারতের মাটিতে সেটা চলতে দেওয়া যায় না৷ বিশেষ করে যখন দেশবাসীর আবেগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় আছে৷ হায়দরাবাদের বেগমপেটে করাচি বেকারির মূল তথা গুরুত্বপূর্ণ আউটলেটের সামনে বিক্ষোভে জড়ো হন জনতা৷
তবে বিক্ষোভকারীদের উষ্মা উড়িয়ে দিয়ে করাচি বেকারির কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁরা মননে ও আচরণে সম্পূর্ণ ও আদ্যন্ত ভারতীয়৷ মালিকপক্ষের দাবি, তাঁদের শিকড় প্রোথিত ভারতেই৷ ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা এবং দেশভাগের কয়েক বছর পরই বেকারির নামকরণে ‘করাচি’ আসে৷ বেকারির মালিকপক্ষের দাবি, ‘‘হায়দরাবাদে ১৯৫৩ সালে করাচি বেকারি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন খনচাঁদ রমনানি৷ তিনি দেশভাগের পর পাকিস্তান ছেড়ে এসেছিলেন ভারতে৷’’ ফেলে আসা করাচি শহরের নামেই শুরু করেন বেকারি। বর্তমানে তাঁর নাতি দোকানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন৷ তাঁরা আইকনিক এই বেকারি ও ক্যাফের নাম পাল্টাতে চান না বলেই জানিয়েছেন৷
advertisement
করাচি বেকারির মালিকের কাতর আর্জি, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে আমরা অনুরোধ করছি যাতে বেকারির নাম না পাল্টানোর ক্ষেত্রে আমরা তাঁদের পাশে পাই৷ অনুগ্রহ করে আমাদের পাশে থাকুন৷ আমরা ভারতীয় ব্র্যান্ড৷ কোনও পাকিস্তানি ব্র্যান্ড বা সংস্থা নই৷’’
বিতর্কিত প্রশ্ন এড়াতে, তাঁদের জাতীয়তাবাদ নির্দ্বিধায় প্রতিষ্ঠা করতে হায়দরাবাদ জুড়ে তাদের বিভিন্ন আউটলেটে সাইনবোর্ডের উপরে ভারতের জাতীয় পতাকা প্রতিষ্ঠা করেন করাচি বেকার কর্তৃপক্ষ৷ কিন্তু তাতেও বিক্ষোভ এড়ানো যায়নি৷ তবে করাচি বেকারির নাম নিয়ে ভারতের মাটিতে বিক্ষোভ এই প্রথম নয়৷ ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর বেঙ্গালুরু শহরে আমজনতার রোষের মুখে তাদের সাইনবোর্ডে ‘করাচি’ শব্দটি ঢেকে ফেলতে বাধ্য হন জনপ্রিয় এই বেকারির কর্তৃপক্ষ৷
