মোবাইল ফোন এবং সমাজমাধ্যমের প্রভাব যখন উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই সময় তিনি কীভাবে মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহার না করেই দেশের নিরাপত্তার গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছেন তা নিয়েই প্রশ্ন করা হয়েছিল জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে৷ বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়লগ-এর মঞ্চে সেই প্রশ্নেরই জবাব দিয়েছেন ডোভাল৷
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি জানি না আপনারা কীভাবে জানলেন যে আমি মোবাইল ফোন ব্যবহার করি না৷ এটা ঠিকই যে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন ছাডা় আমি ইন্টারনেট অথবা মোবাইল ফোন ব্যবহার করি না৷’
advertisement
তিনি আরও বলেন, ‘এক এক সময় আমাকে হয়তো এগুলি ব্যবহার করতেই হয়৷ বিদেশেও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়৷ কিন্ত এগুলি ছাড়াও আমি চালিয়ে নিই৷ যোগাযোগের আরও অনেক মাধ্যম আছে, তাছাড়াও সাধারণ মানুষ ওয়াকিবহল নয় এমন আরও বেশ কিছু ব্যবস্থা করে নিতে হয়৷’
১৯৬৮ ব্যাচের আইপিএস অফিসার অজিত ডোভাল নিজের সুদীর্ঘ কর্মজীবনে গোয়েন্দা দফতর, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাস দমনের একাধিক গুরুদায়িত্ব সামলেছেন৷ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি এই অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মকে দেশকে পুনর্গঠনের কাজে মনোযোগী হওয়ার আর্জি জানিয়েছেন৷
তরুণ প্রজন্মকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে ডোভাল বলেন, ‘সৌভাগ্যবান যে স্বাধীন ভারতে জন্মগ্রহণ করেছো৷ আমি ব্রিটিশ শাসনে থাকা দেশে জন্মেছি৷ আমাদের পূর্বপুরুষরা দেশকে স্বাধীন করার লড়াইয়ে নেমে বহু ত্যাগ স্বীকার করেছেন৷ আমাদের গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হত৷ আমাদের গোটা সভ্যতাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল৷ আমরা অসহায়ের মতো সেসব দেখেছি৷ ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে প্রত্যেক তরুণ ভারতীয়ের বুকে যেন সেই আগুন জ্বলে৷ প্রতিশোধ শব্দটা ব্যবহার করা হয়তো ঠিক নয়, কিন্তু এই শব্দটাই আমাদের শক্তি জোগায়৷ আমাদের ইতিহাসের কথা মাথায় রেখেই আমাদের প্রতিশোধ নিতে হবে৷ আমাদের অধিকার, বিশ্বাস এবং আদর্শের উপরে ভর করে অসাধারণ একটা ভারতবর্ষ গড়ে তুলতে হবে৷’
