পুলিশের আধিকারিক জানান, অভিযুক্ত মহিলা চেয়েছিলেন, মৃত ছেলের গ্র্যাচুয়িটির টাকা তিনি পান। সঙ্গে চেয়েছিলেন, ছেলের মৃত্যুর পর তাঁর সরকারি চাকরির দাবিদার হোক তাঁর নাতি, পুত্রবধূ নন। কিন্তু তাঁর চাওয়া বাস্তবের সঙ্গে মেলে না! গ্র্যাচুয়িটির টাকা এবং ছেলের সরকারি চাকরি… দুই-ই পান পুত্রবধূ! অভিযোগ, এতেই নিজের মাথা ঠিক রাখতে পারেন না বছর ৬০-এর অভিযুক্ত লতাভাই নাথা গাঙ্গুরে।
advertisement
ঠিক কী ঘটেছিল? তবে গোড়া থেকেই বলা যাক! বছরের প্রথম দিন, ঠানের কল্যাণ এলাকার ওয়ালধুনি সেতুর কাছে এক মহিলাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর মাথায় এবং মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। যুবতীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক জানিয়ে দেন, আগেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। মহাত্মা ফুলে চওক পুলিশ থানায় একটি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মামলা দায়ের করে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।
শুরু হয় পুলিশি তদন্ত! তদন্তে মোড় আসে যখন বছর ৬০-এর বৃদ্ধা, অভিযুক্ত লতাভাই নাথা গাঙ্গুরে থানায় তার বউমা, বছর ৩৫-এর রূপালি বিলাস গাঙ্গুরের নিখোঁজ ডায়েরি করতে আসে। সে জানায়, গত ২৪ গণ্টা ধরে তার বউমা নিখোঁজ। এর পর পুলিশ সেতুর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মহিলার দেহ শনাক্ত করায় লতাভাই নাথা গাঙ্গুরেকে দিয়ে। বৃদ্ধা জানায়, সেই তার পুত্রবধূ।
কিন্তু কীভাবে মৃত্যু হল ৩৫-এর রূপালি বিলাস গাঙ্গুরের? পুলিশি তদন্তে জেরা করা হয় শাশুড়িকে আর তাতেই ধোঁয়াশা কাটে। জানা যায়, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে মৃত্যু হয় রূপালির স্বামী বিলাসের। তিনি ছিলেন ভারতীয় রেলের কর্মী। মৃত্যুর পর রূপালি গ্র্যাচুয়িটি হিসাবে ৯-১০ লাখ টাকা পেয়েছেন। অভিযোগ, লতাভাইয়ের দাবি ছিল গ্র্যাচুয়িটির টাকা তার প্রাপ্য। সেই নিয়ে শুরু হয় শাশুড়ি-বউমার বিবাদ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ছেলের সরকারি চাকরি নিয়েও শাশুড়ি- বউমার অশান্তি হয়। লতাভাই চেয়েছিল, বউমা নয়, তার ১৫ বছরের নাতি যখন সাবালক হবে ওই চাকরি সে করবে। তাতে রাজি হননি রূপালি। তিনি নিজে ওই চাকরির জন্য আবেদন জানান। এর পরই বন্ধু জগদীশ মহাদেবের সঙ্গে ফন্দি কষে বউমাকে খুনের ছক আঁটে শাশুড়ি। লোহার রড দিয়ে রূপালির মাথায় জোরে আঘাত করে। রক্তের দাগ মুছে, রক্তমাখা পোশাক পরিবর্তন করে, বউমাকে ফেলে আসে ঠানের কল্যাণ এলাকার ওয়ালধুনি সেতুর কাছে। কল্যান শাখার পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার জানান, ” এটি ঠান্ডা মাথায় খুন।”
