লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তা ভারতের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। এই সঙ্কটের মধ্যেও দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
মানুষের আগে বিপদ টের পায় কারা? আশপাশেই আছে…এই ৮ প্রাণীর বিশেষ ক্ষমতা জানেন?
advertisement
বাড়ির ছাদের জলের ট্যাঙ্ক নোংরা হয়ে গিয়েছে? সহজ কয়েকটি ধাপে,১০ মিনিটে নিজেই সাফ করুন!
মোদি বলেন, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে, তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কয়লা উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌর ও অন্যান্য নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস বাড়াতে কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে। তাঁর কথায়, “গরমকাল আসছে। গরম যত বাড়বে তত বেশি বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়বে। কয়লার উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছে। রিনিউয়েবল এনার্জির দিকেও গত এক দশকে জোর দিয়েছে কেন্দ্র। এনার্জি সিকিউরিটি সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ভারত ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করে এবং দেশের কাছে প্রায় ৫৩ লাখ মেট্রিক টনের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোল মজুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও যাতে তেল, গ্যাস ও সারবাহী জাহাজ নিরাপদে দেশে পৌঁছয়, সেই দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীতে সমস্যার মধ্যেও ভারতের প্রচেষ্টায় একাধিক জাহাজ নিরাপদে দেশে পৌঁছেছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়াও, গত এক দশকে ইথানল উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে প্রায় ৪.৫ কোটি ব্যারেল জ্বালানি আমদানি কমানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। রেলের বৈদ্যুতিকীকরণ, মেট্রো পরিষেবার সম্প্রসারণ এবং ইলেকট্রিক মোবিলিটির উপর জোর দেওয়ার ফলে ডিজেলের চাহিদাও কমেছে বলে উল্লেখ করেন মোদি।
কৃষিক্ষেত্রের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং সরকার সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি জানান, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলিতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় রয়েছেন, যাঁদের সুরক্ষা সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষ ৭৫ হাজারেরও বেশি ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শুধুমাত্র ইরান থেকেই হাজারের বেশি ভারতীয়, যাঁদের মধ্যে বহু ছাত্রও রয়েছেন, নিরাপদে দেশে ফিরেছেন।
তিনি আরও জানান, সংঘাতের জেরে কিছু ভারতীয়র মৃত্যু এবং কয়েকজন নিখোঁজ হওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদ থেকে ঐক্যবদ্ধ বার্তা দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
সবমিলিয়ে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অর্থনীতির উপর চাপ কমানো এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে লোকসভায় স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
