মচ্ছু নদীর উপর CABLE সেতু। হেঁটে পারাপার করতে হয়। নদীর অন্যপাড়ে মনি মন্দির। রবিবার এই মন্দিরে দর্শণার্থীরা ভিড় করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা এখনও ভুলতে পারছেন না চোখের সামনে দেখা সেই ভয়াবহ, মর্মান্তিক দৃশ্য! হঠাৎ করে কী যেন ঘটে গেল... তারপর শুধুই হাহাকার আর চিৎকার, বাঁচার জন্য করুণ আর্তনাদ! প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রবিবার টিকিট কেটে সেতুতে উঠে পড়েন প্রায় ৪০০ জন। ব্রিজের সংকীর্ণ জায়গায় সবাই ভিড় করতে থাকে। সেতুর উপর ক্রমেই চাপ বাড়তে থাকে! আচমকাই হুড়মুড় করে নদীতে ভেঙে পড়ে ঝুলন্ত সেতু। পুরো ঘটনাটি ঘটে মাত্র কয়েক সকেন্ডের মধ্যে।
advertisement
ব্রিজের কাছে ছিলেন এক চা-বিক্রেতা! তিনি এখনও চোখের সামনে দেখা ঘটনার ভয়াবহতা ভুলতে পারেননি, এখনও চোখের সামনে ভেসে উঠছে সেই মর্মান্তিক দৃশ্য...সাত-আট মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা সেতু থেকে পড়ে তলিয়ে গেলেন নদীর জলে। চা বিক্রেতা জানান, ''প্রতি রবিবারের মতো এই রবিবারও সেতুর কাছে চা-বিক্রি করছিলাম। আমি চোখের সামনেই দেখলাম ঝুলন্ত সেতুটি ছিঁড়ে পড়ে গেল। উফফ, কী ভয়ঙ্কর সেই দৃশ্য! সেতুর উপরে থাকা মানুষ চোখের নিমেষে হুড়মুড়িয়ে পড়ে গেলেন জলে। কিছু মানুষ প্রাণ বাঁচাতে তারের সঙ্গে ঝুলছিলেন, পরে তাঁরাও পা পিছলে নদীতে পড়ে যান। আমি চোখের সামনেখে দেখলাম, সাত-আট মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা সেতু থেকে পড়ে গেলেন। কিছু করতে পারলাম না...নিমেষের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল...দৃশ্যটা কিছুতেই ভুলতে পারছি না, আমাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে, সারা রাত ঘুমাতে পারিনি।’’
হাসিনা ভেন নামে স্থানীয় এক মহিলার ভাষায়, '' নিজের হাতে করে মৃত শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলাম। আশা ছিল, যদি বাঁচানো যায়। কিন্তু তখন সব শেষ হয়ে গিয়েছে! ভয়াবহ!''
রবিবার রাতেই নদীতে উদ্ধারকাজে নামে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। নামে সেনাবাহিনীও। দুর্ঘটনাস্থলে ওড়ানো হয় ড্রোন। রাতভর চলে উদ্ধারকাজ। আহতদের ভরতি করা হয় স্থানীয় হাসপাতালে। বিপর্যয়ের তদন্তে ৫ সদস্যের হাইপাওয়ার কমিটি গড়েছে বিজেপি শাসিত গুজরাত সরকার।
মৃতদের পরিবারপিছু দু’লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র গুজরাত সরকার মৃতদের পরিবারপিছু ৪ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা সাহায্য ঘেষাণা করেছে।
গুজরাতের গান্ধিনগর থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে এই সেতু। তৈরি হয় ১৮৮০ সালে, দৈর্ঘ ৭৬৫ ফুট। নির্মাণ সামগ্রী আনা হয় ইংল্যান্ড থেকে। ১৪২ বছর আগে সেতু তৈরিতে খরচ হয় প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা
দীর্ঘদিনের পুরোনো সেতু। মেরামতির জন্য প্রায় ৬ মাস বন্ধ ছিল। সকলের জন্য খুলে দেওয়া হয় চারদিন আগে। তারপরেই রবিবার সন্ধেয় ভয়াবহ বিপর্যয়।
