রাজনৈতিক মহলকে খানিক চমকে দিয়েই এ দিন দিল্লিতে কংগ্রেসে যোগদান করেন মৌসম৷ কংগ্রেসের দাবি, মৌসম ঘরে ফিরলেন৷ কারণ তৃণমূলে যোগ দেওয়ার আগে দশ বছর কংগ্রেস সাংসদ ছিলেন মৌসম৷
তবে কংগ্রেসে ফিরলেও সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনও ক্ষোভের কথা শোনা যায়নি মৌসমের মুখে৷ তিনি দাবি করেছেন, পারিবারিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই কংগ্রেসে ফিরেছেন তিনি৷ মালদহ দক্ষিণের সাংসদ দাদা ঈশা খান চৌধুরীর সঙ্গে তিনি একসঙ্গে কাজ করে বাংলায় কংগ্রেসকে শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছেন মৌসম৷ তবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনও ক্ষোভের কথা না বললেও বাংলায় তিনি পরিবর্তন চান বলে জানিয়ে দিয়েছেন মৌসম৷ তিনি বলেন, ‘বাংলাতেও পরিবর্তন দরকার, কংগ্রেসের জন্য প্রচার করব৷ আমি চাই বাংলায় পরিবর্তন আসুক৷ সেটা আমাকে দিয়েই শুরু হোক৷ কোনও শর্ত নিয়ে কংগ্রেসে যোগ দিইনি৷ কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের উপরে আমার বিশ্বাস আছে৷ আমাকে যে দায়িত্বই দেওয়া হবে, পূরণ করার চেষ্টা করব৷’
advertisement
কেন দল বদল করলেন প্রশ্ন করায় মৌসমের জবাব, ‘তৃণমূল আমাকে রাজ্যসভার সাংসদ, জেলা সভাপতি করেছিল৷ কয়েক মাস ধরেই পরিবারের মধ্যে একটা আলোচনা চলছিল৷ আমি বরকত সাহেবকে দেখেই রাজনীতিতে এসেছিলাম৷ আমার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের পাশে থাকা৷ সেটা তৃণমূলে একরকম ভাবে হচ্ছিল৷ কিন্তু পারিবারিক ভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে বরকত সাহেবের ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, কংগ্রেসকে শক্তিশালী করতে হবে৷ সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত৷’
মৌসমকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কংগ্রেসে যোগদানের পর বাংলায় প্রধান শত্রু হিসেবে কাকে দেখবেন? জবাবে মৌসমের কৌশলী জবাব, কংগ্রেসে যখন যোগ দিয়েছি তখন আমার প্রতিপক্ষে যে দলই থাকবে তারাই আমার শত্রু৷ কিন্তু কংগ্রেসের প্রধান শত্রু হিসেবে বিজেপি-কেই দেখব৷
একা মৌসম নন, এ দিন তাঁর যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ, গুলাম আহমেদ মীররাও বাংলায় কংগ্রেসকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলেন৷ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাম না তৃণমূল কার সঙ্গে তারা বাংলায় জোট করতে আগ্রহী, সে প্রশ্নের উত্তর অবশ্য এড়িয়েছেন কংগ্রেস নেতারা৷
