এনডিটিভি-তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে গুজরাত পুলিশের কনস্টেবল পদে আহমেদাবাদে কর্মরত ছিলেন বাবুলাল৷ সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে ২০ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে৷ দুর্নীতি দমন আইনে বাবুলালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়৷
সেই মামলায় ১৯৯৭ সালে গুজরাতের একটি সেশন কোর্টে বাবুলালের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়ে৷ ২০০২ সালে সেই তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ ফ্রেম করা হয়৷ ২০০৩ সালে মামলার সাক্ষ্যদান শুরু হয়৷ ২০০৪ সালে বাবুলালকে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের কারাবাসের নির্দেশ দেয় নিম্ন আদালত৷ সঙ্গে তিন হাজার টাকা জরিমানা হয় তাঁর৷
advertisement
নিম্ন আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে গুজরাত আদালতে আবেদন করেন বাবুলাল৷ হাইকোর্টেই গত ২২ বছর ধরে তাঁর সেই আবেদন ঝুলে ছিল৷ শেষ পর্যন্ত গত ৪ ফেব্রুয়ারি গুজরাত হাইকোর্ট বাবুলাল প্রজাপতিকে নির্দোষ বলে রায় দেয়৷ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে নিষ্কলঙ্ক হন বাবুলাল৷
বাবুলালের আইনজীবী নীতীন গান্ধি হাইকোর্টে সওয়াল করতে গিয়ে বলেন, গোটা অভিযোগই পুরোপুরি সন্দেহের ভিত্তিতে করা হয়েছে৷ আদালতও তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে জানায়, সাক্ষীদের বয়ান পরস্পরবিরোধী৷ যে তথ্যপ্রমাণ আদালতে জমা করা হয়েছে, তাতে বাবুলালকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না৷ এর পরই বাবুলালকে নির্দোষ বলে রায় দেয় গুজরাত হাইকোর্ট৷
নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নিজের আইনজীবীর চেম্বারে এসে বাবুলাল বলেন, ‘আমার গায়ে লাগা কলঙ্ক মুছে গেল৷ এখন মৃত্যু হলেও আমার কোনও দুঃখ থাকবে না৷’ এর পরই নিজের বাড়ি ফিরে যান বাবুলাল৷ কিন্তু ঠিক তার পরের দিনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর৷
বাবুলালের আইনজীবীর কথায়, ‘গতকাল উনি যখন আমার অফিসে এসেছিলেন, নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খুবই খুশি ছিলেন তিনি৷ আমি তাঁকে পরামর্শ দিয়ে বললাম, প্রাক্তন কর্মী হিসেবে রাজ্য সরকারের থেকে নিজের সমস্ত প্রাপ্য আপনার দাবি করা উচিত৷ পরের দিনই ওনার বাড়িতে ফোন করে জানতে পারলাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওনার মৃত্যু হয়েছে৷’
