জানা গিয়েছে, কেরলের বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সি ওই যুবকের নাম প্রমোদ জনি৷ কয়েক দিন আগেই কেরল পুলিশের আপতকালীন নম্বরে একটি ফোন আসে৷ সেই ফোনে বলা হয়, কোল্লামের জেলাশাসকের অফিস কমপ্লেক্সে একটি বোমা রাখা রয়েছে এবং সেটি ৫০ মিনিটের মধ্যে ফেটে যাবে৷
এই হুমকি ফোন পাওয়ার পরই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ৷ পাশাপাশি কোথা থেকে ওই ফোন এসেছিল, তার খোঁজও শুরু হয়৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ প্রমোদ জনির খোঁজ পায়৷ পুলিশ যখন কোল্লামে মায়য়ানাডের প্রমোদের বাড়িতে পৌঁছে দেখে, ওই ব্যক্তি পুলিশের অপেক্ষাতেই বাড়ি বাইরে দাঁড়িয়ে আছে৷ অন্যদিকে কোল্লামের জেলাশাসকের অফিসেও তল্লাশি চালিয়ে কোনও বোমার খোঁজ মেলে না৷
advertisement
ভুয়ো বোমাতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে পুলিশ জনিকে গ্রেফতার করে৷ কেন সে এ ভাবে বোমাতঙ্ক ছড়াল তা নিয়ে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ৷ তখনই ওই যুবকের উত্তরে পুলিশ অফিসারদের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়৷
জনি জানায়, এর আগে অন্য একটি মামলায় দিন ১৫ জেলে খেটেছিল সে৷ তখনই জেলের খাবার ভাল লেগে যায় তার৷ জনি বুঝতে পারে, জেলে এলে কার্যত বিনা পরিশ্রমেই তিন বেলার খাবার নিশ্চিত৷ তাই জেলে যেতেই ইচ্ছাকৃত ভাবে বোমা রাখার ভুয়ো খবর ছড়িয়েছিল সে৷ জেলে যাওয়ার জন্য কোনও হিংসাত্মক অপরাধ করলে তার নিজের শারীরিক ক্ষতির ভয় ছিল৷ সব দিক ভেবেই তাই বোমা রাখার ভুয়ো খবর পুলিশকে দেয় সে৷
জনির বয়ান খতিয়ে দেখে প্রাথমিক তদন্ত করে পুলিশ৷ তবে শেষ পর্যন্ত ওই যুবকের ফন্দি সফল হয়নি৷ কারণ মামলা রুজু করলেও অভিযুক্তকে জেলে না পাঠিয়ে থানা থেকেই তার জামিনের বন্দোবস্ত করে পুলিশ৷ ফলে নিশ্চিন্তে তিন বেলা জেলের ভাত আর খাওয়া হল না জনির৷
