উদ্ধব এদিন বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একা লড়াই করেছেন এবং একাই বাংলার নির্বাচনে জয় হাসিল করেছেন। যাবতীয় কুমন্তব্য এবং আক্রমণের বিরুদ্ধে বাঙালি তাদের ইচ্ছাশক্তিকে প্রমাণ করেছে। স্বাধীনতার মন্ত্র বন্দেমাতারাম-কেই যেন নতুনভাবে উজ্জীবিত করেছে বাংলার এই লড়াই। বাঙালি দেখিয়েছে স্বাধীন হতে গেলে কী প্রয়োজন।" বলাই বাহুল্য উদ্ধব কেন্দ্রর চাপের মুখে আঞ্চলিক শক্তিগুলির বা রাজ্যগুলির স্বাধীনতার কথা বলছেন।
advertisement
শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নয়, বাংলা এবং বাঙালির আবহমান প্রতিরোধের ইতিহাসের স্তুতিও ঝরেছে উদ্ধবের মন্তব্যে। তিনি বলছেন, "যখনই আঞ্চলিক শক্তি বিপদগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো চাপের মুখে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের একলা চলো রে নীতি উদাহরণ হয়ে থেকেছে। সব ধরনের আঘাত নেমে এসেছে বাংলায় কিন্তু বাঙালির পক্ষে সকলে দাঁড়িয়েকছে। বাংলাই দেখিয়ে দিয়েছে কী ভাবে আঞ্চলিক শক্তিকে জিইয়ে রাখতে হয়।"
সমঝদারদের বক্তব্য, বিজেপি গত সাত বছর জাতীয়তাবাদের জিগির তুলে নির্বাচন থেকে ফায়দা নিয়েছে। পুলওয়ামা-বালাকোট পরবর্তী সময়ে নির্বাচনে কাজে এসেছে জাতীয়তাবাদী স্ট্র্যাটেজি। আঞ্চলিক দলগুলি তাই এখন চাইছে জাতীয়তাবাদের উল্টোদিকে আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদকে (সাব ন্যাশানালিজম) দাঁড় করাতে। আর এই অস্ত্র প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাকে অনুপ্রেরণা স্বরূপ চিহ্নিত করছেন উদ্ধব। পর্যবেক্ষকদের মত আসলে তিনি চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিপুল উত্থানকে সামনে রেখে আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদের চারাগাছকে জল সার দিতে শুরু করুক অন্য সব আঞ্চলিক শক্তিগুলিও। সময় নিয়ে ধাপে ধাপে গড়ে উঠুক নতুন ফ্রন্ট যা সরাসরি মোদি সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবে।।
