পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তাঁর সময়কালে স্থানীয় অস্থিরতা বেড়ে গিয়েছিল কয়েকগুণ। লেহ অ্যাপেক্স বডি এবং কার্গিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের মতো সংগঠনগুলি রাজ্যের মর্যাদা, ষষ্ঠ তফসিল সুরক্ষা এবং স্থানীয়দের জন্য চাকরি সংরক্ষণের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এই আন্দোলন তীব্রতর হয়, উত্তপ্ত হয়ে ওঠে লেহ। সংঘর্ষের সময় পুলিশ গুলি চালালে চার বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়, আহত হন অনেকেই, জারি হয় কারফিউ। লাদাখের প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ এবং সাংবিধানিক মর্যাদা নিয়ে যখন এই রাজনৈতিক ডামাডোল চলছে, তখনই কবিন্দর গুপ্তের পদত্যাগ উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কিন্তু কেন তাঁর এই পদক্ষেপ তা নিইয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যখ্যা এখনও মেলেনি।
advertisement
আরও পড়ুনঃ শরীরের ‘এই’ ৪ অংশ কুরে কুরে ধংস করে! অবিলম্বে ৭ খাবার খান, ফ্যাটি লিভারের ওষুধ থেকে মিলবে মুক্তি
এদিকে, পদত্যাগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁর পদত্যাগ ঘিরে জল্পনার শেষ নেই। দিল্লিতে আনন্দ বোস রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তাঁর কাজের মেয়াদ ছিল ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কিন্তু প্রায় ২০ মাস আগে তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। পিটিআই-কে বলেন, ‘রাজ্যপালের অফিসে যথেষ্ট সময় কাটিয়েছেন তিনি।’ তবে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পিছনে কারণ ব্যাখ্যা করেননি।
রাজ্যপালের পদত্যাগের পরে এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী সি. ভি. আনন্দ বোসের আকস্মিক পদত্যাগের খবরে আমি হতবাক এবং গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই মুহূর্তে তাঁর পদত্যাগের কারণ আমার জানা নেই। তবে, বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য রাজ্যপাল যদি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপের মুখে পড়েন তবে আমি অবাক হব না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন যে শ্রী আর. এন. রবিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত করা হচ্ছে। তিনি এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত রীতি অনুসারে কখনও আমার সঙ্গে পরামর্শ করেননি। এই ধরনের পদক্ষেপ ভারতের সংবিধানের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে এবং আমাদের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তির উপর আঘাত করে। কেন্দ্রকে সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয়তার নীতিগুলিকে সম্মান করতে হবে এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং রাজ্যগুলির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন এক তরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।’
২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন তিনি। পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার অনেক আগেই তাঁর এই প্রস্থান নিয়ে দিল্লির অলিন্দে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তবে কেন এই পদত্যাগ, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাজভবন বা কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট কোনও কারণ জানানো হয়নি।
