এই মন্দিরে রয়েছে দু’টি রত্ন ভাণ্ডার ৷ যেগুলি হল-‘ভিতর ভাণ্ডার’ এবং ‘বাহার ভাণ্ডার’ ৷ মন্দিরে যখন কোনও উৎসব হয়, তখন জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে অলঙ্কার দিয়ে সাজিয়ে তুলতে ‘বাহার ভাণ্ডারের’ অলঙ্কারই ব্যবহার করা হয় ৷ আর মন্দিরে যে দু’টি রত্ন ভাণ্ডার রয়েছে, তাতে রয়েছে সাতটি কক্ষ ৷ কিন্তু তার বেশির ভাগই বন্ধ থাকে ৷
advertisement
৩৪ বছর আগে ১৯৮৪ সালে রত্ন ভাণ্ডারের সাতটি কক্ষের মধ্যে মাত্র তিনটি খোলা হয়েছিল পরিদর্শন করার জন্য ৷ ২০১৬ সাল থেকেই ভারতের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে (এএসআই) পুরীর মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছে।
কোর্টের নির্দেশ অনুসারে, আগামী ৪ এপ্রিল জগন্নাথদেবের রত্ন ভাণ্ডারে প্রবেশ করবেন ১০ জন ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে থাকবেন পুরী মন্দিরের গজপতি মহারাজ ও এএসআই-এর দু’জন আধিকারিক। শোনা যাচ্ছে যে দশ ব্যক্তি মন্দিরে পরিদর্শনের জন্য ঢুকবেন, তাঁদের পরণে থাকবে শুধুই গামছা ৷ মোবাইল, ক্যামেরা বা অন্য কোনও গ্যাজেট নিয়ে ভাণ্ডারে প্রবেশ একেবারেই নিষিদ্ধ। এমনকী পরিদর্শনের সময় মন্দিরে কোনও ভক্তকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
ভাণ্ডারে প্রবেশ করার সময় এবং বেরিয়ে আসার সময়, দু’বারই তাঁদের দেহ তল্লাশি করা হবে বলে জানিয়েছেন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের মুখ্য প্রশাসক প্রদীপ জেনা। মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রধান আধিকারিক আরও জানিয়েছেন যে, ওই ১০ ব্যাক্তি ভাণ্ডারের পরিকাঠামো পরীক্ষার জন্য দেওয়ালে হাত দিলেও, অলংকার স্পর্শ করতে পারবে না।
তবে, অর্থ ভাণ্ডার পরিদর্শন করার আগে পরিদর্শকদের নিরাপত্তার জন্য যথাযথা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ ৷ কেন না এতদিন ধরে অর্থ ভাণ্ডারগুলি বন্ধ থাকার কারণে তার ভিতরে কোনও বিষাক্ত সরীসৃপ বাসা বাঁধতে পারে বলে অনুমান ৷ জানা গিয়েছে, ১৯৮৪ সালে রত্ন ভাণ্ডারের তিনটি কক্ষ পরিদর্শনের সময় সাপের উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন পরিদর্শকরা ৷
