এদিন সংসদে তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় প্রশ্ন তুলছিলেন, কেন একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে৷ সেই প্রসঙ্গ তুলে নাড্ডা বলতে শুরু করেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য যেখানে নিয়মশৃঙ্খলা, আইন সব কোনকালে উঠে গেছে৷ ওদের গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি কোনও শ্রদ্ধা নেই৷ রাজনৈতিক রীতির উপরে শ্রদ্ধা নেই, এমনকি বিচারব্যবস্থাকেও ভয় দেখায় ওরা’৷
advertisement
এরপরেই নাড্ডা অভিযোগ তোলে, ‘‘সম্প্রতি একন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা রাষ্ট্রপতির অসম্মান করেছেন৷ একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতি পদেরই অসম্মান করেননি, তিনি ওই পদে থাকা এক মহিলার অসম্মান করেছেন, যিনি ঘটনাচক্রে একজন আদিবাসী৷’’ এমনকি, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও সম্মান জানানো হয় না বলে সংসদে অভিযোগ করেন নাড্ডা৷ তাঁর বক্তব্য, ‘‘এটা সরকারের দোষ নয়, এটা ওঁর ব্যক্তিগত কাজ৷’’
গত শনিবার উত্তরবঙ্গে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে যান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু৷ সেখানে তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজে এলাম। ওরা বলেছিল পর্যাপ্ত জায়গা (অনুষ্ঠান করার) নেই। এখানে তো ৫ লক্ষ লোক হয়ে যাওয়ার কথা!’’ তার পর মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোটবোন। জানি না, আমার উপর কী রাগ। যাই হোক… কোনও অভিযোগ নেই। কোনও ক্ষোভ নেই। উনি ভাল থাকুন, আপনারাও ভাল থাকুন।’’
এরপরেই সন্ধ্যায় ঘটনা নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, ‘এটি লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে’।
