এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য বিহার থেকে লুধিয়ানায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। ফিরতি পথে ট্রেনের ভেতরেই স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হয়। ট্রেনেই তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু স্বামী তাঁর স্ত্রীর মুখ আঁচলে সুকৌশলে ঢেকে তাঁকে নিজের কোলে ধরে রেখেছিলেন, ট্রেনের ভেতরে থাকা যাত্রীদের তা জানতেও দেননি। ভেবেছিল হয়তো গন্তব্যের আগেই তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হতে পারে।
advertisement
আরও পড়ুন-ওয়াকিটকির হাতেই তুলি, মা দুর্গার চক্ষুদানে ব্যস্ত ‘কনস্টেবল’ সুকুমার
ঘটনাটি বিহারের ঔরঙ্গাবাদ জেলার। ঔরঙ্গাবাদের বাসিন্দা নবীন তাঁর স্ত্রী ঊর্মিলাকে চিকিৎসার জন্য লুধিয়ানায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। চিকিৎসার পর লুধিয়ানা থেকে তাঁরা ট্রেনে চড়েন, বিহারে ফিরে যাওয়ার জন্য। ট্রেন যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণ পরই তাঁর স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ঊর্মিলা ট্রেনেই মারা যান। পাছে তাঁকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়, এই ভয়ে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর স্বামী সহযাত্রীদের জানতেও দেননি। স্ত্রীর মরদেহ কোলে নিয়ে ৫০০ কিলোমিটার পাড়ি দেন নবীন। কিন্তু কয়েকজন যাত্রীর সন্দেহ হয় ঠিকই। তাঁরা জিআরপিকে বিষয়টি জানান। ট্রেন শাহজাহানপুরে পৌঁছলে যুবক ও তাঁর স্ত্রীর মরদেহ নামানো হয়।
টিউশন পড়িয়ে স্বামীকে সাহায্য করতেন স্ত্রী
নবীন জানান, আরওয়াল জেলার বাসিন্দা ঊর্মিলার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। নবীন এক কারখানায় কাজ করেন, আর তাঁর স্ত্রী বাচ্চাদের টিউশন দিয়ে সংসারের হাল ধরতেন। নবীন জানিয়েছেন যে তাঁর স্ত্রী হৃদরোগে ভুগছিলেন, যার জন্য তিনি লুধিয়ানায় নিয়ে গিয়েছিলেন স্ত্রীকে চিকিৎসার কারণে। শুক্রবার রাতে ট্রেন থেকে ফেরার সময় তাঁর স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পথেই মৃত্যু হয়। যাত্রীদের অভিযোগের পর ট্রেনের কর্মী ও শাহজাহানপুর জিআরপিকে বিষয়টি জানানো হয়। ট্রেনটি শাহজাহানপুরে পৌঁছানোর আগেই রেলওয়ে পুলিশ প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত ছিল। পুলিশ যুবক ও তাঁর স্ত্রীর লাশ নামিয়ে আনে। পুলিশ আপাতত ময়নাতদন্তের জন্য মহিলার দেহ পাঠিয়েছে।
