দিল্লি এইমস-এর ট্রমা সেন্টারে ৩২ বছর বয়সী হরিশ রাণার ইচ্ছামৃত্যুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছনোর পরই গোটা দেশের নজর ছিল সেদিকে। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশের পর মেডিক্যাল বোর্ড তাঁর ভেন্টিলেটর এবং ফিডিং টিউব (খাদ্য নালি) সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে দেয়।
দিন তিনেক আগে তাঁকে আইসিইউ থেকে সরিয়ে একটি সাধারণ বেডে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর উপর নজর রাখে। মৃত্যুর প্রক্রিয়াকে কষ্টমুক্ত করতে তাঁর মস্তিষ্ককে শান্ত রাখা এবং শারীরিক ব্যথা কমানোর জন্য বিশেষ ওষুধ দেওয়া হয়। হাসপাতালের করিডরে নেমে আসে নীরবতা।
advertisement
ভারতে প্রথম ব্যক্তি তিনি, যাঁকে প্যাসিভ ইউথেনেসিয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। হরিশ রানা মঙ্গলবার দিল্লি এইমসে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন। ৩১ বছর বয়সী হরিশ রানা ২০১৩ সাল থেকে কোমায় ছিলেন। ১৪ মার্চ তাঁকে তাঁর গাজিয়াবাদের বাড়ি থেকে ডাক্তার বিআর আম্বেদকর ইনস্টিটিউট রোটারি ক্যানসার হাসপাতালের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট হরিশ রানার জন্য প্যাসিভ ইউথেনেসিয়ার অনুমতি দেয়। তিনি ছিলেন পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের বি টেক-এর ছাত্র।তিনি ২০১৩ সালে চতুর্থ তলার বারান্দা থেকে পড়ে মারাত্মক আঘাত পান। সেই সময় থেকে তিনি কোমায় ছিলেন, কৃত্রিম পুষ্টি ও মাঝে মাঝে অক্সিজেন সাপোর্টে থাকতেন।
আরও পড়ুন- প্রেসক্রিপশন ছাড়াই রোগা হওয়ার ওষুধ খান? কোথা থেকে কিনছেন? এবার কিন্তু সতর্কবার্তা জারি করল কেন্দ্র
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, এইমস দিল্লি যেন তাঁর লাইফ সাপোর্ট ধীরে ধীরে তুলে নেয়। লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহার করা হলেও হরিশ রানা যাতে কষ্ট খুব একটা না পান তা নিশ্চিত করেন ডাক্তাররা। এই প্রক্রিয়াটি কার্যকর করার জন্য প্রফেসর ও অ্যানাস্থেসিয়া এবং প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সীমা মিশ্রা-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়, যা ভারতের ইতিহাসে প্রথম। সেই টিমে নিউরোসার্জারি, অনকো-অ্যানাস্থেসিয়া ও প্যালিয়েটিভ মেডিসিন, এবং সাইকিয়াট্রি বিভাগের ডাক্তাররা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
