কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিকাশের চিন্তা স্পষ্ট এবং ধারাবাহিক। সংযোগব্যবস্থাকে উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।পরিকাঠামোকে সুযোগ সৃষ্টির সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও, এটি নিশ্চিত করেছে যে প্রবৃদ্ধি অবশ্যই শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয়-সহ ডাবল ইঞ্জিন শাসন মডেলটি উন্নয়নের গতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত করেছে। ফলস্বরূপে, অসম ভারতের রেল উন্নয়ন তালিকার প্রান্তিক অবস্থান থেকে কেন্দ্রে চলে এসেছে। এই রূপান্তরটি সরকারি বিনিয়োগে ব্যাপক বৃদ্ধির দ্বারা হয়েছে। অসম এবং উত্তর–পূর্বাঞ্চলের জন্য বার্ষিক গড় রেল বাজেট বরাদ্দ ২০০৯–১৪ সালের ২,১২২ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি হয়ে ২০২৫–২৬ সালে ১০,৪৪০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় পাঁচগুণ বেশি। এই ধারাবাহিক ফান্ডিং-এর জন্য গ্রাউন্ড লেভেলে ধারাবাহিক কাজ হচ্ছে, যার অধীনে বর্তমানে অসম ও উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ৭৭,৩৩০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের রেল প্রকল্পের কাজ চলছে।
advertisement
রেললাইনের সম্প্রসারণ এই বিনিয়োগের সবচেয়ে দৃশ্যমান ফলাফলগুলোর মধ্যে একটি। ২০১৪ থেকে ভারতীয় রেলওয়ে অসম এবং উত্তর–পূর্বাঞ্চলে ১,৮৪০ কিলোমিটারেরও বেশি নতুন রেললাইন তৈরি করেছে। শুধুমাত্র অসমেই গত পাঁচ বছরে ৪১৬ কিলোমিটার নতুন রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০ কিলোমিটার নতুন লাইন এবং ৩৬৬ কিলোমিটার ডাবলিং-এর কাজ করা রয়েছে। অসমে মোট রেল নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য এখন ৪,১৯৯ ট্র্যাক কিলোমিটার, যা রাজ্যে পরিচালনগত দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী প্রকল্প অসমের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিয়েছে। এর মধ্যে ৫,৮২০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে নির্মিত বগিবিল ব্রিজ এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত ৯২ কিলোমিটার রেললাইন রয়েছে। রঙিয়া–মুরকংসেলেক (৫১০ কিমি, ৩,০১৯ কোটি টাকা) এবং লামডিং–শিলচর ও বদরপুর–কুমারঘাট (৪১২ কিমি, ৬,৫০০ কোটিটাকা)-এর মতো গেজ রূপান্তর প্রকল্পগুলো প্রত্যন্ত ও সীমান্ত এলাকাগুলিতে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করেছে এবং কৌশলগত চলাচলকে শক্তিশালী করেছে।এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে ভারতীয় রেলওয়ে বহু দশকের দূরত্বকে অবসান ঘটিয়েছে। অসম কেন্দ্রীয় রেলধমনী হিসেবে কাজ করছে, যার ফলে এই অঞ্চলে যাত্রী চলাচল, বাণিজ্য, পর্যটন এবং অর্থনৈতিক আদান–প্রদান সম্ভব হয়েছে।
হাই-টেক ট্রেন পরিষেবা এই পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। গুয়াহাটি-নিউ জলপাইগুড়ি ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’ বর্তমানে এই অঞ্চলের প্রধান সেমি-হাই-স্পিড পরিষেবা হিসেবে চলাচল করছে। এখানে অসম এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের তিনটি জেলা এবং চারটি অনন্য স্টপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।যাত্রী পরিষেবা আধুনিকীকরণের জন্য ভারতীয় রেল অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প চালু করেছে। দেশব্যাপী এই প্রকল্পের অধীনে সারা দেশে ১,৩০০-টিরও বেশি স্টেশনকে পুনর্বিকাশ করা হচ্ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৬০টি স্টেশন নির্বাচন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০-টিই অসমে।
অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৬০টি অমৃত ভারত স্টেশনের জন্য ২,১০১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যার ফলে অসম এই অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী রাজ্যে পরিণত হয়েছে।
অসমের ৫০টি অমৃত ভারত স্টেশন প্রধান শহরাঞ্চল এবং আঞ্চলিক শহরগুলোতে বিস্তৃত, ফলে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়েছে।এর মধ্যে আমগুড়ি, অরুণাচল, চাপরমুখ, ধেমাজি, ধুবড়ি, ডিব্রুগড়, ডিফু, দুলিয়াজান, ফকিরাগ্রাম জং., গৌরীপুর, গহপুর, গোলাঘাট, গোসাইগাঁও হাট, গুয়াহাটি, হয়বরগাঁও, হারমতি, হোজাই, জাগিরোড, যোরহাট টাউন, কামাখ্যাজং., কোকরাঝার, লংকা, লিডু, লামডিং জং., মাজবাট, মাকুম জং., মার্ঘেরিটা, মারিয়নি জং, মুরকংসেলেক, নাহরকটিয়া, নলবাড়ি, নামরূপ, নারেঙ্গি, নিউ বঙাইগাঁও জং., নিউ হাফলং, নিউ করিমগঞ্জ জং., নিউতিনসুকিয়া জং., নর্থ লখিমপুর, পাঠশালা, রাঙাপাড়া নর্থ জং., রঙিয়া জং., সরুপথার, শিবসাগর টাউন, সিলাপথার, শিলচর, সিমলুগুড়ি, টংলা, তিনসুকিয়া, ওদালগুড়ি, বিশ্বনাথ চারিয়ালি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত বছর মে মাসে উদ্বোধন করেন বরগাঁও স্টেশনের। এটাই অসমের প্রথম সম্পূর্ণ হওয়া অমৃত ভারত স্টেশন। সেদিক থেকে যাত্রী সুবিধা এবং ডিজাইনের ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে এই স্টেশন।
এই পুনর্বিকাশ প্রকল্পগুলিতে উন্নত স্টেশন ভবন, আধুনিক প্ল্যাটফর্ম, উন্নত চলাচল এলাকা, আধুনিক বিশ্রামাগার, উন্নত সাইনেজ এবং দিব্যাঙ্গজন–বান্ধব সুবিধার উপর মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি নিশ্চিতকরার জন্য স্থানীয় সংস্কৃতি এবং স্থাপত্যশৈলীর উপাদানগুলোকে অন্তর্ভুক্তকরা হচ্ছে, যাতে স্টেশন সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্যের আধুনিক মান বজায় রেখে অসমের পরিচয়কে প্রতিফলিত করে। পাশাপাশি, পরিকাঠামোর সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের সুযোগ–সুবিধাও উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়েছে। ২০১৪ থেকে অসমের স্টেশনগুলিতে ২৪টি লিফট এবং ২১টি এসকেলেটর স্থাপন করা হয়েছে, যা উত্তর–পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। বর্তমানে রাজ্যের ২১৮টি স্টেশনে ওয়াই–ফাই সংযোগ উপলব্ধ রয়েছে।সুরক্ষা ও প্রযুক্তির আধুনিকীকরণের মধ্যে রয়েছে ১,০০০টিরও বেশি এআই–বেসডসিসিটিভি ক্যামেরা, এলিফ্যানন্ট করিডোরের জন্য এআই–বেসড ইন্ট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেম এবং আন্ডারওয়াটার রোবোটিক ব্রিজ ইন্সপেকশন।
রেলের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, গত এগারো বছরে অসমের রেলওয়ের অগ্রগতি উদ্দেশ্য থেকে বাস্তবায়নের দিকে পরিবর্তন প্রতিফলিত হয়।রেকর্ড পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ, নীতির স্বচ্ছতা এবং সময়সীমা মেনে কাজ সম্পন্ন করার ওপর ধারাবাহিক মনোযোগ রাজ্যজুড়ে এবং উত্তর–পূর্বাঞ্চলে সংযোগ ব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিয়েছে। উত্তর–পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে, অসম এখন দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার অবস্থান বজায় রেখেছে এবং দেশের উন্নয়ন যাত্রার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত।
