সুশীলের বক্তব্য, হালে দেশে সংবাদমাধ্যমগুলো যে অর্নৈতিক দুরবস্থার মুখে পড়েছে, তার জন্য মূলত দায়ী করা যায় Google এবং Facebook-এর ব্যবসায়িক নীতিকে। তিনি জানিয়েছেন যে সংবাদমাধ্যমগুলো প্রচুর পরিমাণে অর্থ লগ্নি করে কর্মচারী নিয়োগ করে, নানা যন্ত্রপাতি বসায়। কিন্তু সেই সব খবর যখন Google এবং Facebook-এ শেয়ার হয়, তখন এই দুই সংস্থা তা নিয়ে ব্যবসা করে। এই খবরগুলো থেকে তারা বিপুল পরিমাণে উপার্জন করে থাকে। অথচ, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো তার কোনও ভাগ পায় না। তাই পার্লামেন্টে এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন সুশীল। জানিয়েছেন যে অস্ট্রেলিয়া সরকার যে আইন প্রণয়ন করেছে, যাতে খবর শেয়ার করলে Google এবং Facebook-কে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে টাকা দিতে হবে, তেমন একটি আইন এই দেশেও প্রণয়ন করা হোক। এই নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রককে চিঠি দেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
advertisement
বর্ষীয়ান রাজনীতিকের এই পরিকল্পনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশের নানা মহলে চাপান-উতোর শুরু হয়ে গিয়েছে। সরকারের সঙ্গে মাসখানেক আগেই ভুয়ো খবর ছড়ানো নিয়ে বিবাদ বেধেছিল Twitter-এর। সরকারের অনুরোধ মতো বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট ব্যান করলেও অবশেষে সংস্থা জানায় যে আদতে বিষয়টি ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, অতএব তারা কোনও পদক্ষেপ করবে না। এবার এই আইন প্রণয়ন হলে Google এবং Facebook-এর সঙ্গেও যে সরকারের বিবাদ বাধবে, তা অনুমান করা খুব একটা কঠিন কিছু নয়।
অন্য দিকে, এই আইন প্রণয়ন করার ফলে অস্ট্রেলিয়ার ইউজারদের ব্লক করে দিয়েছে Facebook। অস্ট্রেলিয়ার ইউজারদের খবর প্রচার, প্রসার এবং দেখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। শুধু তাই নয়, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য, আপৎকালীন পরিষেবা এবং সংবাদমাধ্যমের পেজও ব্লক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই টেক-জায়ান্ট। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে দেশের বাইরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরাও সেই সব পেজে ঢুকতে পারবেন না কিংবা কোনও কন্টেন্ট দেখতে বা পড়তে পারবেন না।
দেশে যদি নতুন আইন প্রণয়ন হয়, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার মতো ভারতীয়দেরও কি Facebook থেকে বঞ্চিত হতে হবে? বিষয়টি কঠিন, কিন্তু অস্ট্রেলিয়া সাহস করে পদক্ষেপ করতে পেরেছে, আপাতত শুধু এটুকু বলেই নীরব থাকছেন সুশীল।
