প্রায় ১৮০ জন যাত্রীকে নিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু-র উদ্দেশে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বিমানটি রওনা দেয়। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিমানটি সেখানে নামতে পারেনি এবং পরে বেঙ্গালুরুতে ফিরে আসে। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের স্পষ্ট কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।
advertisement
আরও পড়ুনঃ কলকাতার স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মাইলফলক, খোলনলচে বদলে গেল বি আর সিং হাসপাতালের!
পরদিন শুক্রবার একই বিমান আবার কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু দ্বিতীয়বারও ল্যান্ডিং সম্ভব না হওয়ায় বিমানটি উত্তরপ্রদেশের লখনউ-এ ডাইভার্ট করা হয়। সেখানে নেমে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় বিমানেই বসিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে যাত্রীদের মধ্যে ক্লান্তি ও ক্ষোভ আরও বাড়ে।
এক যাত্রী বলেন, “আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানের মধ্যে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। কী হচ্ছে, সে সম্পর্কে কোনও পরিষ্কার তথ্য দেওয়া হয়নি।” বহু যাত্রী দাবি করেন, পুরো ঘটনায় তাঁরা মোট ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিমানের মধ্যে কাটিয়েছেন।
অবশেষে লখনউতে দীর্ঘ অপেক্ষার পর যাত্রীরা বিমানের ভেতরেই বিক্ষোভ শুরু করলে বিমান সংস্থা তাঁদের আবার বেঙ্গালুরুতে ফিরিয়ে আনে। সেখানে পৌঁছে বহু যাত্রী ইমিগ্রেশন কাউন্টারের সামনে বসে পড়ে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের অভিযোগ, দু’দিনের যাত্রা সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে এবং নেপাল ভ্রমণের সমস্ত পরিকল্পনা নষ্ট হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে Central Industrial Security Force (CISF)-এর কর্মীরা হস্তক্ষেপ করে যাত্রীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ব্যাখ্যা, ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস জানায়, কাঠমান্ডুতে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেই ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারির বেঙ্গালুরু-কাঠমান্ডু ফ্লাইটগুলি ডাইভার্ট করা হয়। সংস্থার দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের হোটেল থাকার ব্যবস্থা, ফ্রি রিশিডিউলিং বা সম্পূর্ণ রিফান্ডের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে একটি অতিরিক্ত ‘রিকভারি ফ্লাইট’ চালানোর কথাও জানানো হয়েছে।
সংস্থা আরও জানায়, “পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় এই অসুবিধা হয়েছে। আমরা দুঃখিত এবং যাত্রীদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
