এই স্কিমের অধীনে, স্টেশন অ্যাক্সেস এবং চলাচলের জায়গা উন্নত করা, অপেক্ষা কক্ষ এবং শৌচাগার উন্নত করা, যেখানে প্রয়োজন সেখানে লিফট এবং এসকেলেটর স্থাপন করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি করা এবং বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা প্রদানের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্যাসেঞ্জার ইনফমেশন সিস্টেম, এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ, বিজনেস মিটিং-এর জন্য নির্দিষ্ট স্থান, ল্যান্ডস্কেপিং এবং উন্নত স্টেশন সম্মুখভাগ, পুনর্বিকাশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই স্কিম ‘এক স্টেশন এক পণ্য’ কিয়স্কের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করেছে, যার ফলে স্থানীয় জনসাধারণের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়।
advertisement
আরও পড়ুন-ফাল্গুন অমাবস্যাতেই লাগবে ‘জ্যাকপট’…! ২ রাশির বিপুল অর্থলাভ, খুলবে সৌভাগ্যের দরজা, আপনার ভাগ্যে কী
অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের আওতাধীন অসম এবং সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেলওয়ে ভূদৃশ্যকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে জোনে পুনর্বিকাশের জন্য মোট ৯২টি স্টেশন চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৬০টি স্টেশন এই স্কিমের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অসমের ৫০টি স্টেশন, ত্রিপুরায় ৪টি এবং সিকিম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মিজোরাম এবং নাগাল্যান্ডের প্রতিটিতে ১টি করে স্টেশন রযেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে অসম এই অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি লাভান্বিত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে পুনর্বিকাশের কাজ প্রধান নগর কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শহর উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-ভয়ঙ্কর দুঃসময় আসছে…! মঙ্গলের দুরন্ত চালে কাঁপবে ত্রিলোক, ৩ রাশির জীবন ‘নরক’, পদে পদে চরম বিপদ
হয়বরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনটি অসমের প্রথম সম্পূর্ণ অমৃত ভারত স্টেশনে পরিণত হয়েছে এবং মে ২০২৫-এ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এটি উদ্বোধন করেন। পুনর্নির্মিত এই স্টেশনটি যাত্রী সুযোগ-সুবিধা, পরিকাঠামো এবং ডিজাইনের ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। ‘বিরাসত ভি বিকাশ ভি’ নীতির উপর নির্মিত এই স্টেশনটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাগুলিকে অসমীয়া সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে নির্বিঘ্নে মিশ্রিত করেছে। এটি কেবল একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবেই নয়, বরং দিব্যাঙ্গজনের জন্য সঠিক পরিকাঠামো-সহ বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধাযুক্ত একটি প্রাণবন্ত শহর কেন্দ্র হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে।
অসমে, একাধিক ডিভিশনে কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের অধীনে, ফকিরাগ্রাম স্টেশন ৮৮%, কোকরাঝাড় ৭৮%, ধুবড়ী ৮০% এবং গৌরীপুর ৮২% কাজ সম্পূর্ণ করেছে। রঙিয়া ডিভিশনের অধীনে, মাজবাট রেলওয়ে স্টেশন ৯৮% সম্পূর্ণ হয়েছে, যেখানে বিশ্বনাথ চারিয়ালী স্টেশন ৯৭% অগ্রগতি অর্জন করেছে। লামডিং ডিভিশনের অধীনে, চাপরমুখ স্টেশন ৮৫% অগ্রগতি অর্জন করেছে। এদিকে, তিনসুকিয়া ডিভিশনে, উত্তর লখিমপুর স্টেশন এবং সিমলুগুড়ি জংশন প্রতিটি ৬৫% ভৌত অগ্রগতি অর্জন করেছে। মেঘালয়ে, রঙিয়া ডিভিশনের অধীনে মেন্দিপথার স্টেশনের পুনর্বিকাশে ৭৩% অগ্রগতি হয়েছে।
অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম, দ্রুতভাবে উন্নয়নশীল দেশের চাহিদা পূরণ করার জন্য ভারতের রেলওয়ে পরিকাঠামোকে রূপান্তরিত করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ। আপগ্রেডেড স্টেশনগুলি নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি করবে, ভ্রমণের সুবিধা বৃদ্ধি করবে এবং আশেপাশের অঞ্চলগুলির জন্য আর্থ-সামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসাবে আবির্ভূত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং আঞ্চলিক পরিচয় সংরক্ষণের মাধ্যমে, এই স্কিমটি অসম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত উন্নয়ন অর্জনের সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে।
