মায়ের নিথর দেহের পাশে বসে থাকা ছেলেটির ছবি ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালে পৌঁছানো পর্যন্ত ছেলেটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা মায়ের দেহের পাশেই বসে ছিল। পরে পুলিশই দেহের ময়না তদন্ত এবং শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করে দেয়৷ ছেলেটির বাবারও মৃত্যু হয়েছে এইচআইভি-তে আক্রান্ত হয়েই৷
advertisement
দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ছেলেটির বাবা গত বছর এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ১০ বছরের কিশোর ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, তার মা টাহর বীরাঙ্গনা অবন্তী বাই মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন ছিলেন৷ এইচআইভি ধরা পড়ার পর থেকেই সমাজে তাদের অবস্থান বদলে যায় এবং সবাই তাদের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। সে আরও জানায়, আগে সে স্কুলে যেত, কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর মা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়।
“আমি মায়ের দেখাশোনা করতাম। এটাহে তাঁর চিকিৎসা চলছিল, এমনকি কানপুর ও ফররুখাবাদের লোহিয়া হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমার কাকাও জানত না যে তিনি মারা গেছেন,” জানিয়েছে কিশোর৷ জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানান, ওই মহিলার টিবি (যক্ষ্মা)-র চিকিৎসা শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে৷ তখন থেকেই পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি তাঁরা খতিয়ে দেখছেন।
স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছায়। হাসপাতালের লোকজন সংবাদমাধ্যমকে জানান, কর্মকর্তারা না আসা পর্যন্ত ছেলেটি তার মায়ের দেহ ছেড়ে যেতে অস্বীকার করেছিল। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জৈথরা থানার SHO রীতেশ কুমার জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের জানানো হয়েছিল যে একটি শিশু একা দেহটির সঙ্গে রয়েছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে এক সাব-ইন্সপেক্টর ও এক কনস্টেবলকে পাঠাই। ছেলেটির কেউ ছিল না, তাই আমরা শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করি৷’’ পরে কাসগঞ্জ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের কিছু দূর সম্পর্কের আত্মীয় মর্গে পৌঁছালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা যায়।
প্রসঙ্গত, বাবা-মাকে হারানোর নিজের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত ওই শিশু৷ ১০ বছরের শিশুটি অভিযোগ করেছে যে তার আত্মীয়রা তার জমি দখল করতে চেয়ে তাকে হুমকি দিচ্ছে। সে আরও জানায়, তার মায়ের অসুস্থতার কথা জানা সত্ত্বেও আত্মীয়রা পরিবারটিকে কোনও সাহায্য করেনি কেউ৷
