এই বোলপুর শান্তিনিকেতন এলে তালগাছের মাঝে ঘিরে থাকা বাড়িটি আপনি চাইলেও না দেখে এড়িয়ে যেতে পারবেন না। বোলপুরের উপাসনা গৃহের বা উপাসনা মন্দিরের উত্তর-পূর্ব দিকে একবার চোখ মেললেই দেখতে পাবেন সেই ঐতিহ্যবাহী বাড়টি। বর্তমানে ‘তালধ্বজ’ নাম নিয়ে আজও দিব্যি সুন্দর দাঁড়িয়ে রয়েছে গাছটি। বাড়িটি যখন তৈরি হয় সেই সময় গাছটিকে কোনও ভাবেই কাটতে দেননি বাড়ির সদস্যরা।
advertisement
তবে কে এই বাড়ির মালিক! আর তিনি কেনই বা এই বাড়িটি তৈরি করেছিলেন! এই বিষয়ে জানা যায় প্রকৃতিবিদ তেজেশ্চন্দ্র সেন ঢাকা শহরে বড় হয়েছিলেন। ছোট্টবেলার সেই সহজপাঠ বইতে তাঁর লেখার সঙ্গে পরিচিত আমরা সবাই। সেখান থেকেই আমাদের অনেকের প্রকৃতিপাঠের হাতেখড়ি। শান্তিনিকেতনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ পঞ্চাশ বছরের। প্রথমে ব্রহ্মচর্যাশ্রমের শিক্ষক ও পরে পাঠভবনের। গোটা আশ্রম-চত্বরের এই দিক থেকে শুরু করে ওই দিক ঘুরে ঘুরে চলত তেজেশচন্দ্রের ক্লাস।
আরও জানা যায় মন্দিরের পাশে বসেই অনেক সময় ক্লাস নিতেন তেজেশচন্দ্র। তবে মন্দিরে নাকি কখনওই প্রবেশ করতেন না তিনি। অন্তত সুপ্রিয় ঠাকুর ঠিক এমনটাই লিখেছিলেন ‘ছোটবেলার শান্তিনিকেতন’ বইটিতে। মন্দিরে প্রবেশ না করলেও সর্বদা ওই ব্যক্তিগত মতামতকে চিরকালই সম্মান জানিয়েছেন আশ্রম কর্তৃপক্ষ। আর সেই কারণেই হয়তো নিবিড়ভাবে প্রকৃত চর্চা চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন তিনি। আজ থেকে বহু বছর আগে এক সময় এই বাড়িটিতে প্রবীণ নাগরিকরা বাটিক প্রিন্টের কাজ করতেন তবে বর্তমানে সেই ঘর বন্ধ রয়েছে। ইউনেস্কো থেকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা পাওয়ার পর বর্তমানে এই বাড়িটি ঐতিহ্যবাহী বাড়ি হিসেবে পরিচিত। তাই এবার বোলপুর শান্তিনিকেতন গেলে অবশ্যই ঘুরে আসুন এই জায়গা থেকে।