মন্দিরে সভাপতি সুদীন গোস্বামী জানান, ‘‘গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ৫৪১ তম শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে প্রতি বছরের মতোই।’’ তিনি জানান শ্রীমদ্ভাগত পাঠ, চৈতন্য চরিতামৃত পাঠ দিয়ে শুরু হয়েছে অনুষ্ঠানের উম্মাদনা। একাধারে যেমন বসন্তের আগমনে সকলে রং এর উৎসবে নিজেদের রাঙিয়ে তোলে, পাশাপাশি চৈতন্য মহাপ্রভুর শুভ আবির্ভাব তিথিকেও যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয় নবদ্বীপ শহরে।
advertisement
আর অন্যান্য উৎসব অনুষ্ঠানের থেকেও এই দোল উৎসবে নবদ্বীপে ঘটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বহু বিদেশি পর্যটক তথা ভক্তের সমাগম। নবদ্বীপ শহরে কমবেশি আনুমানিক পাঁচশো মঠ মন্দির আছে, আর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন কমবেশি প্রায় সকল মঠ মন্দিরেই হয়ে থাকে।
তবে ব্যতিক্রমী ভাবে মহাপ্রভুর শুভ অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় শহরের মধ্যস্থলে থাকা নবদ্বীপ ধামেশ্বর মহাপ্রভু মন্দিরে। নবদ্বীপ ধামেশ্বর মহাপ্রভু মন্দিরে এর পর প্রতিদিন চলছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। ৩ মার্চ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে মহাঅভিষেক। তিনি আরও জানান মা বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর পিতা সনাতন মিশ্রের সেবিত রাজ রাজেশ্বরী যে শিলা আছে সেই শিলার ওপরে ষোড়শোপচারেই এই অভিষেক অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হল শ্রীমন মহাপ্রভুর শুভ অন্নপ্রাশন, তিনি বলেন এটি একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অনুষ্ঠান, কারণ যেমন আমাদের পরিবারের কোনও ছোট সন্তানের অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, ঠিক সেইভাবেই এই অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ঝিনুক-বাটি, চুষিকাঠি থেকে শুরু করে সব থাকে। পাশাপাশি নাটমন্দির জুড়ে ৫৬ ভোগের আয়োজন করা হয় ও অন্নকূট মহোৎসবের মতোই অন্ন দিয়ে গিরি গোবর্ধন পর্বত তৈরি করা হয়। এদিনও কয়েক হাজার ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয় মহাপ্রসাদ।