আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক মন্মথ দাস তাঁর পটাশপুরের ‘সেকাল একাল’ গ্রন্থে বলেছেন, নৈপুরের শোলাঙ্কী বংশীয় জমিদার দাস-কানুনগো পরিবারের এই মন্দির একটি প্রাচীন বৈষ্ণব দেবস্থান। মদনমোহন জীউর বিগ্রহ প্রাপ্তি নিয়েও রয়েছে ইতিহাস। রাজা পুরুষোত্তম দেবের পুত্র বাসুদেব দেবসিংহের রাজত্বকালে যুবরাজ শিবরাম দেবের এক পুত্র অতি শৈশবে মারা যায়। সেই সন্তানের নাম ছিল মদনমোহন। এই ঘটনার সঙ্গে মন্দিরের ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
advertisement
কথিত, এরপরই একদল সাধু গঙ্গাসাগর থেকে প্রত্যাবর্তনের পথে নৈপুরগড়ে আশ্রয় নেন। রাজপরিবার তাঁদের আতিথেয়তা গ্রহণ করে। সেই সাধুদের সঙ্গে ছিল কৃষ্ণপাথরের একটি মদনমোহন বিগ্রহ। নৈপুরগড় থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তাঁরা সেই বিগ্রহ যুবরাজ শিবরাম দেবের হাতে তুলে দেন। এরপর সেই বিগ্রহ রাজ পরিবারের ইষ্টদেবতা হিসেবে পূজিত হতে শুরু করে।
আরও পড়ুন : ভালবাসার ছোঁয়া! মন ছুঁয়ে যাওয়া উদ্যোগে অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য সাধভক্ষণের আয়োজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের
মন্দির নির্মাণের উদ্দেশে বৃদ্ধ রাজা বাসুদেব দেবসিংহ ভিত্তিস্থাপন করেন। পরে রাজা শিবরাম দেবের আমলেই মন্দির নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়। প্রথমে মন্দিরে এককভাবে মদনমোহন জীউ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। পরবর্তীকালে রাজা নীলাম্বর দেবসিংহের রাজত্বকালে মন্দিরে আরও মূর্তি সংযোজিত হয়। বগড়ীর কৃষ্ণরায় জীউর মন্দির থেকে অষ্টধাতু নির্মিত রাধিকা জীউ এখানে আনা হয়। পরে ললিতা সখীর বিগ্রহও মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মন্দিরটি ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়। জগমোহনের চালায় সেই তারিখ আজও খোদাই করা আছে। মন্দিরের গঠনশৈলীও বিশেষভাবে নজরকাড়া।
এটি সপ্তরথ দেউল রীতিতে নির্মিত। জগমোহনের চালা পিরামিড আকৃতির। মন্দিরে টেরাকোটার কাজ নেই। মদনমোহন জীউর দু’বেলা অন্নভোগসেবা হয়। আজও এই মন্দির জেলার ইতিহাসের এক জীবন্ত স্মারক।