পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর নতুনগ্রাম পরিচিত ‘কাঠপুতুলের গ্রাম’ নামে। এই গ্রামের ঐতিহ্য কাঠের তৈরি পেঁচা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কাঠ কেটে, খোদাই করে বিভিন্ন ধরনের পুতুল তৈরি করে আসছেন শিল্পীরা। কাঠের পেঁচা শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়, বরং এই গ্রামের শিল্পীদের জীবিকা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুনগ্রামের শিল্পী সুদেব ভাস্কর বলেন, ” এটা আমাদের গ্রামের ঐতিহ্য। এই শিল্পের উপর নির্ভর করেই আমাদের সংসার চলে।” তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এখন আর শুধু কাঠের পেঁচা বা পুতুলেই সীমাবদ্ধ নন নতুনগ্রামের শিল্পীরা। ঐতিহ্যকে বজায় রেখেই তাঁরা তৈরি করছেন নিত্যনতুন সামগ্রী।
advertisement
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল, বর্তমানে শিল্পীরা কাঠ দিয়ে তৈরি করছেন বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র। এর মধ্যে রয়েছে ডাইনিং টেবিলের সেট, কাঠের চেয়ার, বড় কাঠের বেঞ্চ, বুক সেলফ-সহ আরও নানা ধরনের আসবাব। এই আসবাবপত্রগুলির নকশায় বিশেষত্ব রয়েছে, প্রতিটি কাজেই কোনও না কোনওভাবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে নতুনগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কাঠের পেঁচার ছোঁয়া।যেমন, বুক সেলফের মধ্যে হাতে আঁকা কাঠের পেঁচার ছবি, কাঠের চেয়ারের পিঠে ছোট্ট খোদাই করা পেঁচা কিংবা বেঞ্চের নকশায় পেঁচার অবয়ব। আধুনিক আসবাব হলেও ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে গ্রামের শতাব্দী প্রাচীন শিল্পধারা। সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুনগ্রামের শিল্পীরা একদিকে যেমন নিজেদের ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন, তেমনই আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের শিল্পকে নতুন রূপে তুলে ধরছেন।