জানা গিয়েছে, নির্দেশ অনুযায়ী, এই বদলি অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে এবং ১৯ মার্চ ২০২৬ বিকেল ৩টার মধ্যে যোগদানের রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে। এছাড়া, যাঁদের সরানো হয়েছে, তাঁদের নির্বাচনী কাজে আর কোনও পদে রাখা যাবে না নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত।
এ ছাড়াও, কলকাতার দুই নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)-কে বদল করল কমিশন। দিন কয়েক আগেই উত্তর কলকাতার ডিইও হিসাবে পুরসভার কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ডিইও হিসাবে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসককে নিয়োগ করে কমিশন। তবে কলকাতার ক্ষেত্রে নিয়মটা আলাদা। কলকাতায় জেলাশাসক না-থাকায় কোনও দফতরের আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিককে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট কোনও পদাধিকারিকের উপর দায়িত্ব থাকত না। তবে কমিশন জানায়, এ বার থেকে উত্তর কলকাতার ডিইও হবেন যিনি পুরসভার কমিশনার থাকবেন। বুধবার পুর কমিশনার সুমিত গুপ্তের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হল স্মিতা পাণ্ডেকে। আর দক্ষিণ কলকাতায় নতুন ডিইও করা হয়েছে রনধীর কুমারকে। কমিশন জানিয়েছে অবিলম্বে এই নির্দেশিকা কার্যকর করা হবে।
advertisement
৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফের রাজ্যে ৫ ডিআইজি বদলের নির্দেশ দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এর আগে ১৯ জন সিপি-এসপি বদলের নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এই প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, বর্ধমান রেঞ্জের নতুন ডিআইজি করা হয়েছে শ্রীহরি পাণ্ডেকে। প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের নতুন ডিআইজি হলেন কঙ্করপ্রসাদ বাড়ুই। মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের নতুন ডিআইজি অজিত সিং যাদব। জলপাইগুড়ি রেঞ্জের নতুন ডিআইজি পদ সামলাবেন অঞ্জলি সিং। এবং রায়গঞ্জ রেঞ্জের নতুন ডিআইজি রাঠোর অমিত কুমার ভকত।
প্রসঙ্গত, ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই আধিকারিক স্তরে একের পর এক বদলের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হওয়ার পরেই রাজ্যর মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ একাধিক আমলা এবং সিনিয়র আধিকারিকদের রাতারাতি বদলির নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন।
এই বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কমিশনকে চিঠিও পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ বা নির্বাচনী অনিয়মের কারণ দেখানো হয়নি। এত বড় মাত্রার বদলি ‘অযৌক্তিক’ ও ‘একতরফা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। অতীতে নির্বাচন কমিশন সাধারণত রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নিত বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে। এবার সেই প্রচলিত রীতি মানা হয়নি বলেই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
আরও পড়ুন: টোটাল ভোটের টার্গেট ১ লাখের উপরে! প্রচারে নেমেই ‘দাবাং’ মেজাজে দিলীপ ঘোষ, বললেন..
প্রসঙ্গত, রাজ্যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার পরপরই রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষ আধিকারিকদের সরানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে প্রতিবাদও করতেও দেখা যায় তাঁকে। জানা গিয়েছে, চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত প্রথা ও কেন্দ্র–রাজ্যের সমন্বয়ের নীতি মানা হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁর।
এতে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বা ফেডারেলিজম ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল চেতনাই ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে চিঠিতে মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু, এরপরেও আধিকারিক স্তরে বদলি অব্যাহত রেখেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবারেও পাঁচ ডিআইজি বদল করা হল।
