নবান্ন সূত্রে খবর, কৃষির পরিকাঠামো খাতে দেওয়া টাকা, জাতিগত শংসাপত্র, প্রতিবন্ধী শংসাপত্র, আধার সংক্রান্ত সমস্যা, জমির মিউটেশন, জমির পাট্টার আবেদন পত্র, অটিজান ক্রেডিট কার্ড, ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ড, ওয়েবার ক্রেডিট কার্ড, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, মানবিক, রূপশ্রী এবং বিধবা ভাতা-- এই ১৪ টি প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত ১০০% পরিষেবা পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১০০ শতাংশ পরিষেবা পূরণ করার জন্য জেলাগুলি ও কয়েকটি দফতরকে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নবান্নের তরফে।
advertisement
আগামী বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যেকটি দফতরের মন্ত্রী, সচিব ও জেলাশাসকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন। তার আগে নবান্নের তরফে এই নির্দেশকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, দুয়ারে সরকারে মানুষের সর্বাধিক আগ্রহ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে। ১১ লক্ষ সাড়ে পনেরো হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। যার মধ্যে নানা কারণে সাড়ে চব্বিশ হাজারে বেশি আবেদন বাতিল করতে হয়েছে। দেখা গিয়েছে, দুয়ারে সরকার ১৪টি পরিষেবার ক্ষেত্রে ১৮ লক্ষ ৬২ হাজার ৮৪৩ টি আবেদন পড়লেও ইতিমধ্যে ৫০ হাজার ৯৪১ টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। তারপরও ৩ লক্ষ ৪৯ হাজার ৭৯০টি আবেদন এখনও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই নিস্পত্তি করা হবে। বিধবা ভাতার জন্য ১ লক্ষ ১৩ হাজার ২৪৩ টি আবেদন জমা পড়েছে। এখনও ৭৫১ টি ক্ষেত্রে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
আধার সংক্রান্ত আবেদনের ক্ষেত্রে ৮০.৭২ শতাংশই নিষ্পত্তি হয়নি। জমির পাট্টা সংক্রান্ত আবেদনের ৩৩.৩৩ শতাংশ ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি জেলা প্রশাসন। বেকার ছেলে-মেয়েদের ব্যবসার সুযোগ করে দিতে সদ্য চালু হওয়া ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ডের জন্য জমা পড়া আবেদনের ১১.৩৮ শতাংশ এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। আবেদন জমা পড়েছিল ৪৩ হাজার ২৯৭। এই আবেদনে ত্রুটি থাকার জন্য ইতিমধ্যেই ২৫৮২ টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। তবে যে আবেদনগুলি বাতিল করা হয়েছে তা কী কারণে বাতিল হয়েছে, তাও একবার দেখতে বলা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। পাশাপাশি, এই ১৪ টি প্রকল্পের ক্ষেত্রে ১০০% যাতে নিষ্পত্তি করে দেওয়া যায় সে বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নবান্নের তরফে বলে সূত্রের খবর।
সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়
