কলকাতা ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান (K-CAP) তৈরীর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কলকাতা পুরসভা। ইউনিসেফ তাকে সহযোগিতা করবে এবং রাজ্য সরকারের সহযোগিতা থাকবে। মূলত শহরের জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যের উপর প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই উদ্যোগ। সেক্ষেত্রে শিশুদের শাস্তির কথা বিশেষভাবে মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা বলে জানালেন কলকাতা পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রণিতা সেনগুপ্ত। ধর্মতলার বেসরকারি হোটেলে কলকাতা ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান এর প্রথম বৈঠকে পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রণিতা সেনগুপ্ত জানান শহরে এই মুহূর্তে যা দূষণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তাতে সমীক্ষায় দেখা গেছে দুটি শিশুর মতে একজন শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত।
advertisement
তিনি আরো বলেন, গত সাত দশক ধরে ধীরে ধীরে শহরের তাপমাত্রা বাড়ছে। গড় তাপমাত্রা বাড়তেই শহরে চরিত্র বদলাচ্ছে মশাবাহিত রোগ। বিশেষ করে ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়ার প্রতিরোধে নিত্য নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হচ্ছে কলকাতা পৌরসভা কে। এখন আর শীতের সময়ও বসে থাকার উপায় নেই কলকাতা পৌরসভার স্বাস্থ্যকর্মীদের। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ বছরভর এই স্লোগানকে সামনে রেখেই এগোতে হচ্ছে কলকাতা পুরসভাকে। ইউনিসেফ এবং কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে এই সেমিনারে ইউনিসেফের রাজ্যের চিফ মনজুর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন কলকাতার প্রাক্তন শেরিফ দুলাল বোস। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডঃ টি কে মুখোপাধ্য়ায়। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকেরা। ছিলেন ভেক্টর কন্ট্রোল অফিসার দেবাশিস বিশ্বাস এবং মনোবিদ সোমাশ্রী বসু। ইউনিসেফের রাজ্যের চিফ মনজুর হোসেন জানান, শিশুদের ওপর দূষণ এবং পরিবেশ পরিবর্তনের যে প্রভাব সেই বিষয়েই আমাদের নজর থাকবে সব থেকে বেশি। একইসঙ্গে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখা হবে এই পরিকল্পনায়।
আগামী দিনে কলকাতা শহরের বাতাসের গুণগত মান এবং এই বায়ু দূষণ ম্যানেজমেন্ট আরও কীভাবে উন্নত করা যায় সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করবে কলকাতা পুরসভা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে গড় তাপমাত্রা বাড়ছে তা প্রতিরোধে হিট ম্যানেজমেন্ট এর ওপরেও বিশেষ পদক্ষেপ করা হবে বলে জানালেন ইউনিসেফ-এর চিফ। তবে কলকাতায় শহরের পরিবেশ দেখে এবং কলকাতা পুরসভার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন unicef এর কর্তা। কলকাতা পুরসভার জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি জানান। এবার সেই উদ্যোগ আরও শিশুকেন্দ্রিক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাবে ইউনিসেফ, আর সেটা হবে কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্য সরকারের সহযোগিতায়।
