তৃণমূলের আইটি সেলের ইন-চার্জ দেবাংশু ফেসবুকে একটি চার লাইনের ছড়া পোস্ট করেন। লেখেন – ‘হাসছে ওরা, ঠাট্টা করে বলছে দেখো/ বড়র সাথে ছোট্টরা সব করবে লড়াই। পিঁপড়ে ভেবে ভাবছ যাদের ভীষণ ছোট/ অত বড় আরশোলাকে বইছে ওরাই।’
আরও পড়ুন: ভারতের কোন ‘জায়গায়’ একটিও ‘সাপ’ নেই বলুন তো…? ‘নাম’ শুনলেই চমকাবেন, শিওর!
advertisement
এমন লেখা সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই দলে নবীনদের একাংশকে কি উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে জোর চর্চা শুরু হয়। একইসঙ্গে প্রবীণদের একাংশের উদ্দেশেই দেবাংশুর এমন নিশানা বলেও অভিযোগ ওঠে।
যদিও বেলা গড়াতেই দেবাংশু ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিকে টার্গেট করে একটা কবিতা লিখেছিলাম। সেই কবিতা অনেক সংবাদমাধ্যমে বিতর্ক চলাকালীন বলেওছি। আজ আবার নিজের একটা ছবি ছাড়ার সময় ক্যাপশন হিসেবে ওই কবিতার চারটি লাইন ব্যবহার করেছি। অদ্ভুতভাবে লক্ষ্য করলাম, সেই চারটে লাইনকে ইচ্ছাকৃত ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখানো হচ্ছে কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে।
দেবাংশু লেখেন, “স্পষ্টভাবে বলতে চাই, তৃণমূল কংগ্রেসের নবীন-প্রবীনে কোনও বিভেদ নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেনাপতিত্বে যেমন প্রবীণরা দলের হয়ে লড়াই করছেন, তেমনই আমাদের মত নবীনরাও এই যুদ্ধে অবতীর্ণ সমান্তরালভাবে। তাই, দয়া করে কোনও বিভেদের চেষ্টা করবেন না। তৃণমূল কংগ্রেস ঐক্যবদ্ধ পরিবার।”
নিজের পোস্ট এডিট করে ছড়ার নীচে এরপর একটি লাইন লিখে দেন দেবাংশু। জানিয়ে দেন, ছড়াটি লোকসভা ভোটের আগে লেখা। কিন্তু এর পরই ফের প্রশ্ন ওঠে, যদি ভোটের আগেই লেখা হয়, তখন প্রকাশ না করে হঠাৎ এখন কেন সেটি পোস্ট করলেন? বিশেষ করে যখন দলবিরোধী ও দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক নতুন প্রজন্মের নেতার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করছে তৃণমূল, তখনই কেন এমন পোস্ট?
তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ পিঁপড়ে ও আরশোলার ‘ক্ষমতা-ভয়ের’ বিষয় নিয়ে রসিকতা করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, “জানেন তো আরশোলা আবার হাওয়াই চটিকে ভয় পায়। ওটাও ছন্দ করে লিখে দিলে পারত। পিঁপড়ে আরশোলাকে টানে। আবার আরশোলা হাওয়াই চটিকে ভয় পায়। আমার মনে হয় ও ভালে লেখে, ভালে ছন্দ করে ছড়া লিখতে পারে। তবে এটাও ঠিক নিশ্চিতভাবে ছোট হলেও পিঁপড়ে খুবই শক্তিশালী। লাল পিঁপড়ে কামড়ালে যথেষ্ট লাগে। ডেঁয়ো পিঁপড়ে কামড়ালে ব্যথা হয়। আবার পিঁপড়েরাও আরশোলা বয়ে নিয়ে যায় ঠিকই। তবে এটাও ঠিক যে, আরশোলার ওষুধ হিসেবে কিন্তু বেগন স্প্রের থেকে হাওয়াই চটি বেশি কার্যকর।”
