মহিলা জানান, ডিপার্টমেন্টের টানা ৩০ ঘন্টা ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ডিউটি করতে হয় তাঁকে। এমনকি সম্পর্ক স্থাপন না করলে তার 'কেরিয়ার শেষ করে দেওয়া'র হুমকিও দেওয়া হয়। এরপর গত বছর ডিসেম্বর মাসে হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত এক চিকিৎসা সম্মেলনে গিয়ে হোটেলে ডিনার করার জন্য ডেকে পাঠানো হয় তাঁকে। অভিযোগ, সেখানেই তাঁর ওপর যৌন হেনস্থা (Sexual Harassment Case) করা হয়। এমনকি হাসপাতালেও যখন তখন তাঁর হাত ধরা এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ স্পর্শ করার অভিযোগ তোলেন ওই মহিলা চিকিৎসক।
advertisement
ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের বিভাগীয় প্রধানকে বারবার করে এই বিষয়ে অভিযোগ জানালেও তিনি কোনওরকম ব্যবস্থা নেননি বলেও অভিযোগ করেন ওই মহিলা চিকিৎসক।বরং গোটা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বিভাগীয় প্রধান।
এরপরই এই বছর ২৭ শে জানুয়ারি এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মহিলা চিকিৎসক। এরপরই নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দ্রুত আইসিসি বা ইন্টারনাল কম্প্লেন্ট কমিটি গঠন করা হয়। দশ সদস্যের ওই কমিটি অভিযোগকারী মহিলা চিকিৎসক এবং অভিযুক্ত দুই সিনিয়র চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং পাশাপাশি ডিপার্টমেন্টের অন্যান্য চিকিৎসক এবং ছাত্র ছাত্রীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
গত মাসে হাসপাতালের আইসিসি বা অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। সেই রিপোর্টে অভিযোগকারী মহিলা চিকিৎসকের বক্তব্যের অনেকাংশই সত্যি বলে বলা হয় এবং অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক কে দোষী বলে পরিগণিত করা হয়।পাশাপাশি ডিপার্টমেন্টের বেশিরভাগ চিকিৎসক এবং ছাত্র-ছাত্রীরাই অভিযোগকারী মহিলা চিকিৎসককে সমর্থনে সাক্ষ্য দেন। সেই রিপোর্ট পাঠানো হয় স্বাস্থ্য দপ্তরে।
শেষমেশ স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যসচিব নারায়ন স্বরূপ নিগম জানান, অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গোটা বিষয়টা দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরপর সন্ধ্যায় সল্টলেক স্বাস্থ্য ভবন থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয় যে মূল অভিযুক্ত চিকিৎসককে এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে শিয়ালদহ এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে এবং অন্যতম অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধান চিকিৎসক কে কলকাতা মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ৫ মার্চ ভবানীপুর থানায় এই দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন ওই মহিলা চিকিৎসক খুব দ্রুত ভবানীপুর থানা থেকেও চার্জশিট জমা পড়বে বলে আশাবাদী অভিযোগকারী চিকিৎসক।
