মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রজাতন্ত্র দিবসের বার্তায় বলেন, “দেশের সংবিধানের মূল মূল্যবোধ—ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সমতা এবং ভ্রাতৃত্বের প্রতি নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে।” তিনি বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ এবং সামাজিক সম্প্রীতির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি স্মরণ করান একটি পুরোনো প্রবাদ—চিরন্তন সতর্কতাই স্বাধীনতার মূল্য। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, প্রজাতন্ত্র ও সংবিধানকে রক্ষা করতে আজ সম্মিলিত সতর্কতাই সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
advertisement
‘যাত্রীদের পছন্দের স্বাধীনতা থাকতে হবে’! বন্দে ভারত স্লিপারের নিরামিষ মেনু ঘিরে তৃণমূল–বিজেপি তরজা
অন্য দিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বার্তায় সংবিধানের চার মূল স্তম্ভ—বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব শুধুমাত্র শব্দ নয়, বরং আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া জীবন্ত প্রতিশ্রুতি বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এই মূল্যবোধগুলোর জন্যই স্বাধীনতা সংগ্রামীরা প্রাণ দিয়েছিলেন এবং এই আদর্শগুলোকেই কথায় ও কাজে রক্ষা করার শপথ নেওয়া হয়েছে।
৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রেক্ষিতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সংবিধানকে এক আঘাতে নয়, বরং বহু নীরব আঘাতে খণ্ডিত করা হচ্ছে। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, বিভিন্ন সম্প্রদায়কে প্রান্তিক করে দেওয়া হচ্ছে এবং ভাষা, খাদ্য, বিশ্বাস, ভালোবাসা ও মতপ্রকাশের মতো মৌলিক স্বাধীনতাগুলিও ক্রমশ প্রশ্নের মুখে পড়ছে।”
তবে প্রজাতন্ত্র দিবসকে তিনি শুধু স্মরণের দিন নয়, আত্মবিশ্লেষণ ও নতুন করে সংকল্প নেওয়ার দিন বলেই উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, প্রজাতন্ত্র টিকে থাকে না ক্ষমতার দয়ায়, বরং টিকে থাকে কারণ মানুষ প্রতিদিন তাকে বেছে নেয়। সেই বেছে নেওয়ার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এবং সংবিধানের প্রতিশ্রুতিকে জীবিত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
