যদিও তাঁর জন্য সেলিমের আবেগপ্রবণ হয়ে পড়াকে গতকালই কুম্ভীরাশ্রু বলে কটাক্ষ করেছিলেন প্রতীক উর৷ এ দিন তৃণমূলে যোগদানের পরেও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদককে তীব্র আক্রমণ শানান প্রতীক উর৷ গতকাল মহম্মদ সেলিম বলেছিলেন, প্রতীক উরের দল ছাড়া তাঁর কাছে সন্তান হারানোর যন্ত্রণার সমান৷ এ দিন সেলিমের সেই মন্তব্যেরও জবাব দিয়ে প্রতীক উর বলেন, পিতা যদি নিজেই গলা টিপে সন্তানকে মারেন? তাহলে আর কী করা যাবে? আমার তথাকথিত বাবাকে বলব, যখন কথা বলতে গিয়েছিলাম বাবা তো দরজা খোলেননি৷
advertisement
রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নেও মহম্মদ সেলিমকেই নিশানা করেছেন প্রতীক উর৷ তিনি বলেন, আমার নীতি বিজেপি-কে আটকাবো, ফ্যাসিস্ট শক্তিকে আটকাবো৷ বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে দেবো না৷ এটাই আমার সঙ্গে তৃণমূলের ডিল৷ আমরা তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বিজেমূল বলতাম৷ অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এসআইআর নিয়ে লড়াই করলেন৷ আর মহম্মদ সেলিম ওয়েলেফয়ার পার্টির নেতাদের আলিমুদ্দিনে নিয়ে এসে বৈঠক করলেন, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করছেন, এটা ডিল?
সিপিএমের অন্দরের পরিস্থিতিকে দমবন্ধকর বলেও এ দিন দাবি করেছেন প্রতীক উর৷ তাঁর আরও দাবি, সিপিএমের অন্দরে এই পরিবেশের জন্য আসতে আসতে অনেকেই সরব হচ্ছেন৷
তরুণ প্রজন্মের নেতারা কেন দল ছাড়ছেন, তা নিয়ে রাজ্য সিপিএম নেতৃত্বকে আক্রমণ করেছেন অভিষেকও৷ তিনি বলেন, ‘ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় চাওয়া পাওয়ার জন্য তৃণমূলে আসেননি৷ কানহাইয়া কুমারের মতো ছেলে কংগ্রেসে চলে গিয়েছে৷ আর যাঁদের অঙ্গুলিহেলনে ৩৫ শতাংশ ভোট বিজেপি-তে চলে গেল, তাঁরা দল চালাবে? যাঁদের কারণে সিপিএম শূন্য, তাঁরা অন্যকে ব্যক্তি আক্রমণ করছেন? আয়নায় নিজের মুখটা দেখুন৷ কাদের সঙ্গে লড়বেন ঠিক করুন৷ যাঁরা বিজেপি-র কথায় উঠছে, বসছে, তাঁদের সঙ্গে রাতের অন্ধকারে মিটিং? এত বড় রেজিমেন্টেড পার্টি তাঁরা কখনও আব্বাস সিদ্দিকি, নওশাদ সিদ্দিকি, হুমায়ুন কবীরদের সঙ্গে মিটিং৷’
