আর তৃণমূলের সঙ্গে কী ‘ডিল’ হয়েছে, সেই বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে প্রতীক-উর বলেন, “বলছে না ডিল হয়েছে? বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আটকাব। এটাই ডিল হয়েছে আমার। সিপিআইএম-এ ছিলাম তখন বিজেমূল-বিজেমূল বলে রটিয়েছে। তৃণমূল সেটা ভুল প্রমাণের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত গেলেন। আর প্রতিদিন তৃণমূল সিপিএমকে বলছে, বিজেপির বি টিম। ভোট ট্রান্সফার করেছ। এটাই প্রমাণ করতে হুমায়ুনের সঙ্গে সেলিম বসলেন। ওয়েলফেয়ার পার্টির নেতাদের নিয়ে আলিমুদ্দিনে বসলেন।”
advertisement
অপরদিকে, সিপিআইএম নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, ‘বলা হচ্ছে প্রতীক উর তৃণমূলের সঙ্গে ডিল করেছেন৷ কী ডিল? বলছে বিধানসভা ভোটে টিকিট পাচ্ছে৷ প্রতীক উর নিজে আমাকে বলেছে দাদা দল আমাকে টিকিট দিলেও নেব না৷ একটা ছেলেকে আগে থেকে গদ্দার, বেইমান বলে দিলেন৷ কারণ আপনাদের স্তাবকে পরিণত হয়নি৷ সংবাদমাধ্যমে স্নো পাউডার মেখে বলে বেড়াচ্ছে প্রতীক উর ডিল করেছে৷ ও আমাকে নিজে বলেছে দাদা সংগঠনের কাজ করতে চাই৷ দল আমাকে বিধানসভা ভোটে টিকিট দিলেও লড়ব না৷ এটা না বললে আমার বিবেকে লাগত৷ এটা আমি বলতাম না৷ কিন্তু ভাল কর্মী কোথায় পাবেন? একটা ছেলে যাঁর রাজনীতি থেকে চাওয়া পাওয়া নেই৷ আলিমুদ্দিনের নেতারা সার্টিফিকেট দেবে তার পর বামপন্থী হিসেবে গণ্য করা হবে? নাকি মানুষের জন্য যে নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করতে চায়, সে প্রকৃত বামপন্থী? সিপিএম নেতাদের কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ঘরের ছেলেকেই সিপিএম চিনতে পারেনি!’
রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নেও সিপিএম-কে জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক৷ অভিষেক বলেন, ‘কোন আদর্শের ভিত্তিতে আপনি হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করেন জোট করেন? কোন আদর্শের ভিত্তিতে ২০২১-এ কেরলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়ছেন আর বাংলায় জোট করছেন? কোন আদর্শের ভিত্তিতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পকে ভিক্ষা বলছেন? কোন আদর্শের বিরুদ্ধে কম্পিউটার বন্ধ করেন? চারটে বিশ্ববিদ্যালয়, দুটো সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল তৈরি করেননি? আমাদের আদর্শ প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন৷’
প্রতীক উরের গুণের প্রশংসা করেই তিনি বলেন, “আমি কিছু বলার আগেই ও বলছে আমি বিধানসভা নির্বাচনে টিকিটের জন্য় আসিনি। সংগঠনে কাজ করব। ভাল কর্মী কোথায় পাবেন? সব দলেই ভাল খারাপ আছে। যাঁদের চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই মানুষের জন্য কাজ করতে চায় এর জন্য কাউকে দরকার নেই।”
