ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন সবে এক সপ্তাহ হয়েছে। তার মধ্যেই শুরু রাজনৈতিক তরজা। কারণ, করুণাময়ী, সেন্ট্রাল পার্ক, সিটি সেন্টার, সল্টলেক স্টেডিয়ামের এইসব পোস্টার। প্রকল্পের জন্য পোস্টারগুলিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। বিধাননগর নাগরিকবৃন্দের নামে ওই পোস্টারে প্রকল্পের পরিকল্পনা ও অনুমোদনের কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে মমতাকেই। পোস্টারে লেখা, ‘ ইস্ট-ওয়েস্ট প্রকল্পের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ৷ প্রকল্পের ‘পরিকল্পনা’, ‘অনুমোদনের’ জন্য ধন্যবাদ৷’ বিধাননগর নাগরিকবৃন্দের নামে পোস্টার ৷
advertisement
একনজরে দেখা যাক, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর ইতিবৃত্ত।
- বাম আমলে ২০০৮ সালে কলকাতা-হাওড়াকে জুড়তে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো তৈরির পরিকল্পনা হয়
- কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রক ও রাজ্য পরিবহণ দফতরের যৌথ মালিকানায় তৈরি হয় কলকাতা মেট্রো রেলওয়ে করপোরেশন লিমিটেড
- KMRCL-এর ৫০ শতাংশ শেয়ার রাজ্যের পরিবহণ দফতরের
- বাকি ৫০ শতাংশ শেয়ার কেন্দ্রের নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের
- ২০০৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী হন
- তখন রাজ্যের শেয়ার নিয়ে নেয় ভারতীয় রেল
- পরে নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের থেকে আরও ২৬ শতাংশ শেয়ার নেয় েরল
- অর্থাৎ রেলের হাতে থাকে ৭৬ শতাংশ ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের হাতে থাকে ২৪ শতাংশ শেয়ার
তাই কেএমআরসিএলের দাবি, প্রকল্প কেন্দ্রের টাকাতেই তৈরি। তৃণমূলের দাবি, প্রকল্পের কৃতিত্ব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরই। কৃতিত্ব নিয়েছে কেন্দ্র। পাল্টা বাবুল সুপ্রিয়র দাবি, প্রকল্পের কৃতিত্ব কেন্দ্রেরই। রুট বদলে দিয়ে, জমিজট নিয়ে টালবাহানা করে মুখ্যমন্ত্রী বরং কাজে দেরি করে দিয়েছেন।
উদ্বোধনের দিন মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ ওঠে। যার প্রতিবাদে শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীরা অনুষ্ঠানে যাননি। যদিও মেট্রো দাবি করে, প্রথমে কার্ড দিয়ে ও পরে নবান্নে গিয়ে আমন্ত্রণ করা হয়। সেই বিতর্ক মিটতে না মিটতেই এবার কৃতিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক তরজা।
