বিজেপি সূত্রের খবর, আগামী ১৭ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গের মালদহের ইংরেজবাজারে সভা করার কথা রয়েছে তাঁর৷ তার পরের দিনই হুগলির সিঙ্গুরে সভা করার কথা মোদির৷ জানা গিয়েছে, ওই দিনই সিঙ্গুর থেকে হুগলি-পুরুলিয়া লোকালের উদ্বোধন করবেন তিনি৷ একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরে সিঙ্গুরে জনসভা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির৷
বঙ্গ রাজনীতিতে ‘সিঙ্গুর অধ্যায়ে’র গুরুত্ব আলাদা করে বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না৷ ২০০৬ সালের ১৮ মে সিঙ্গুরে ছোট গাড়ি তৈরির প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন রতন টাটা। ২৫ মে থেকে ৯৯৭ একর কৃষিজমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। তার নেতৃত্বে ছিল বিরোধী তৃণমূল। গোপালনগর, বেড়াবেড়ি, বাজেমেলিয়া, খাসেরভেড়ি, সিংহেরভেড়ি-সহ বেশ কয়েকটি আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ২৫ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশি হামলার অভিযোগ ওঠে। আহত হন বেশ কয়েক জন গ্রামবাসীও।
advertisement
২০০৬-এর ৩০ নভেম্বর সিঙ্গুরে গিয়ে আক্রান্ত হন তৎকালীন বিরোধীনেত্রী মমতা। সিঙ্গুরের ‘অনিচ্ছুক’ কৃষকদের জমি ফেরানোর দাবিতে ২৬ দিন (৩-২৮ ডিসেম্বর, ২০০৬) ধর্মতলার মোড়ে অনশন-অবস্থান করেছিলেন মমতা। পরে সিঙ্গুর থেকে কারখানা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় টাটা৷
রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, ১৮ বছর আগে যেভাবে ‘শিল্পহারা’ হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ এবং তার পর থেকে যেমন উল্লেখযোগ্য কোনও শিল্প এ রাজ্যে হতে দেখা যায়নি, সেই কথাই মনে করিয়ে বঙ্গে কর্ম সংস্থানের প্রসঙ্গ তুলতে চাইছে বিজেপি৷
আরও পড়ুন: হতে পারে শৈত্যপ্রবাহ ! আরও শীত দক্ষিণের জেলায়, আগামী দিনে আরও ঠান্ডা বাড়বে?
গত সপ্তাহেই বঙ্গ সফরে এসেছিলেন শাহ৷ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ রাজ্যের প্রথমসারির বিজেপি নেতানেত্রীদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি৷ তবে এখানেই শেষ নয়, বঙ্গ সফর চলাকালীন কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স বা আইসিসি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন শাহ। বলেন, শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ীদের মনে বিশ্বাস ফেরাতে না পারলে শিল্প পরিকল্পনা সার্থকতা লাভ করে না।
পশ্চিমবঙ্গের কথা উল্লেখ করে শাহ বলেন, ‘‘এই রাজ্যে পরিবর্তনের পরও নিরাশার পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাই এবার এই পরিবর্তনেরও পরিবর্তন আনতে হবে।’’ প্রশ্ন তোলেন, ‘‘যে রাজ্যে কথায় কথায় বোমা পড়ছে সে রাজ্যে কীভাবে শিল্প হবে? শুধু পরিকল্পনা করে শিল্প করা যাবে না।’’
