ব্যস্ত সূচির মধ্যেই News18-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র নেতৃত্বাধীন শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন৷ তাঁর অভিযোগ, এই দল জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং রাজ্যের চরিত্র বদলানোর চেষ্টা করছে।
advertisement
আপনি নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নেননি কেন?
মিঠুন-আমি যদি লড়তাম, তাহলে একটি আসনেই সীমাবদ্ধ থাকতাম। তার বদলে আমি গোটা রাজ্য জুড়ে ঘুরে আরও বেশি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তিনি ২৯৪টি আসনের মুখ—আমিও মানুষকে বলছি, আমার মুখ ভেবে ভোট দিন।
আপনার দলের মুখ কে? সুযোগ পেলে আপনি কি সেই দায়িত্ব নেবেন?
মিঠুন-দল নির্বাচনের পর নেতৃত্ব ঠিক করবে। সুযোগ পেলে আমি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। তবে এখন আমার বিশ্বাস, পরিবর্তন জরুরি।
আপনি বলেছেন, বিজেপি হারলে হিন্দুরা সমস্যায় পড়তে পারেন। কেন এমন মনে হচ্ছে?
মিঠুন-আমার মনে হয়, বিজেপি হারলে বাংলায় হিন্দুরা গুরুতর সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। মুখ্যমন্ত্রীর কিছু বক্তব্য, যেখানে বলা হয়েছে তিনি না থাকলে একটি সম্প্রদায় অন্যদের টার্গেট করতে পারে—এগুলো উদ্বেগজনক। আমার মতে, বিভাজনমূলক রাজনীতি হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রেও ভারসাম্যহীনতা আছে অনেক আদিবাসী স্কুলে শিক্ষক নেই, অথচ অন্যত্র, যেমন মাদ্রাসা শিক্ষায় বেশি অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে।
আপনার বিরুদ্ধে মুসলিম-বিরোধী হওয়ার অভিযোগ উঠছে। আপনি কী বলবেন?
মিঠুন- আমরা ভারতীয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে নই। আমরা তাদের বিরুদ্ধে যারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে।
বিজেপি নেতৃত্ব এই নির্বাচনকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছে। আপনার মত কী?
মিঠুন-আমার মতে, টিএমসি সরকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। সীমান্তে বেড়া এবং অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ আছে, এবং আমি অভিযোগ করছি যে ভোটের কারণে এসব সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। আমার মতে, বাংলাকে “পশ্চিম বাংলাদেশ”-এ পরিণত করার চেষ্টা চলছে, যা আমি সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করব।
ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে অভিযোগ সম্পর্কে আপনার মত কী?
মিঠুন- আমার মতে, কিছু বিজেপি ভোট মুছে গেলেও, এই প্রক্রিয়ায় আগের অনিয়মও দূর হয়েছে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কিছু বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছি, যা আমার মতে মানুষকে উস্কে দেয়। আমার সিনেমার সংলাপ নিয়ে যদি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তবে এসব মন্তব্যের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি থাকা উচিত।
মালদহের ঘটনার বিষয়ে আপনার মত কী?
মিঠুন-আমার মতে, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পুরো থানাকে দায়ী করা উচিত কীভাবে পরিস্থিতি সামলানো হয়েছে তার জন্য। আমি এটাও মনে করি প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়েছে, যা ঘনঘন অফিসার বদলির মধ্যে দেখা যাচ্ছে।
খাবারের অভ্যাস নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য—আপনার প্রতিক্রিয়া?
মিঠুন-বাংলার মানুষ মাছ খায় এবং খেতেই থাকবে। আমার মতে, খাবারের অভ্যাস নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য একটি বিভ্রান্তিকর প্রচার তৈরি করা হচ্ছে।
ফলাফল আপনি কীভাবে দেখছেন?
মিঠুন-আমি নিশ্চিত, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে এবং একটি নতুন সরকার গঠিত হবে।
