কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিসের বাইরে অশান্তির ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করল পুলিশ৷ অভিযুক্তদের মধ্যে কলকাতা পুরসভার দু জন তৃণমূল কাউন্সিলরও রয়েছেন৷ হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ এই এফআইআর দায়ের করেছে বলে খবর৷
নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, কলকাতা পুরসভার অভিযুক্ত দুই তৃণমূল কাউন্সিলর হলেন শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু (৩২ নম্বর ওয়ার্ড) এবং সচিন সিং (৩৬ নম্বর ওয়ার্ড)৷ এ ছাড়াও মহম্মদ ওয়াসিম, মইদুল, চন্দ্রকান্ত সিং এবং মহম্মদ রিজওয়ান আলি নামে আরও চারজনের বিরুদ্ধে অশান্তির ঘটনায় জামিন অযোগ্য ধারায় মামলার রুজু হয়েছে।
advertisement
গত ৩১ মার্চ স্ট্র্যান্ড রোডের সামনে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে৷ তৃণমূল এবং বিজেপি-র সংঘর্ষ তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়৷ কোনওক্রমে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ এলাকায় জমায়েত রুখতে জারি করা হয়েৃ বিএনএস-এর ১৬৩ ধারা৷ ওই দিন রাতেও অভিযুক্ত দুই তৃণমূল কাউন্সিলর পুলিশের আপত্তি অগ্রাহ্য করে কমিশনের অফিসের সামনে জমায়েত করেন বলে অভিযোগ৷ রাস্তা অবরুদ্ধ করে রেখে তাঁরা সিইও মনোজকুমার আগরওয়ালের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক স্লোগানও দেন বলে অভিযোগ৷ সেই ঘটনার জেরেই মামলা রুজু করেছে পুলিশ৷ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়া, বেআইনি জমায়েতের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে৷
প্রসঙ্গত, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে বেআইনি ভাবে ফর্ম সিক্স জমা করে অন্য রাজ্যের ভোটারদের নাম এ রাজ্যের ভোটার তালিকায় তোলা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে গত ৩০ মার্চ তৃণমূলের পক্ষ থেকে সিইও দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়৷ তৃণমূল শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সিইও দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে একই অভিযোগ তুলেছিলেন৷ দলের বিএলও-দের সিইও দফতরের সামনে বসে থেকে ফর্ম সিক্স জমার উপর নজরদারি চালানোরও নির্দেশ দেন অভিষেক৷
তারপরেই গত ৩১ মার্চ বিরোধী দলনেতা সিইও দফতরে যান৷ তৃণমূলের অভিযোগ এর পরই বিজেপি-র পূর্ব মেদিনীপুরের এক নেতা ব্যাগ ভর্তি ফর্ম সিক্স নিয়ে সিইও দফতরে প্রবেশ করে জমা করেন৷ ওই বিজেপি নেতার উপরে চড়াও হন তৃণমূলপন্থী বিএলও এবং শাসক দলের কর্মী সমর্থকরা৷ তৃণমূল সমর্থকদের দাবি, ওই বিজেপি নেতা প্রায় চারশো ফর্ম সিক্স জমা করার কথা স্বীকারও করে নেন৷
এই উত্তেজনার মধ্যেই ঘটনাস্থলে বিজেপি কর্মী, সমর্থকরাও জড়ো হন৷ দু পক্ষ পরস্পরের দিকে তেড়ে যায়৷ তৃণমূল এবং বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়৷ কোনওক্রমে দু পক্ষকে আলাদা করে মাঝখানে ব্যারিকে়ড দিয়ে দেয় পুলিশ৷ ঘটনাস্থলে হাজির হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ এর পরেও ব্যারিকেড টপকে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বাইক ভাঙচুর করার অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে৷ ঘটনাস্থলে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা থাকলেও এলাকায় যথেষ্টই উত্তেজনা রয়েছে৷
