এ দিন ভোটের ইস্তেহার প্রকাশ করতে গিয়েও বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা যা বলি সেটা করে দেখাই৷ বাংলার আর কোনও উন্নয়ন বাকি আছে বলে মনে হয় না৷ আগামী দু এক বছরে আমরা চাইব সব বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেব৷ প্রত্যেকের কাঁচা বাড়ি পাকা করে দেবো৷ বিধবা এবং প্রবীণদের ভাতা কিছু বাকি আছে, যাঁদের বাকি আছে সেটাও অনুমোদন দেওয়া হবে৷ আমাদের অঙ্গীকারের৷ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে অনুদানের পরিমাণ আমরা বাড়িয়ে দিয়েছি৷ যাঁরা বলছে এখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেবে, তাঁরা এখন বলছে ভোটে জিতলে আর টাকা দেবে না৷ যুবসাথী প্রকল্পে আমরা ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সিদের হাত খরচের জন্য আমরা ১৫০০ টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি৷ আমরা ২ কোটি ছেলেমেয়েকে চাকরি দিয়েছি৷’
advertisement
এ বার তৃণমূলের অন্যতম প্রতিশ্রুতি, দুয়ারে সরকারের আদলে দুয়ার চিকিৎসা পরিষেবা শুরু হবে৷ প্রতিটি ব্লক, শহরে দুয়ারে চিকিৎসা নামে এই স্বাস্থ্য শিবির করা হবে৷ এর পাশাপাশি কয়েক হাজার সরকারি স্কুলের আধুনীকিকরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী৷ এই স্কুলগুলিতে ই লার্নিং সহ আধুনিক পঠনপাঠনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন মমতা৷ নিয়োগ করা হবে শিক্ষকও৷
এ ছাড়াও একাকী প্রবীণদের দেখাশোনার জন্য বিশেষ প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন মমতা৷ আগামী দিনে রাজ্যে নতুন সাত থেকে আটটি জেলা এবং নতুন পুরসভা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷
এ দিন ছটি ভাষায় তৃণমূলের ইস্তেহার প্রকাশ করা হয়েছে৷ ইস্তেহারে আগামী ১৫ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা জানানো হয়েছে৷
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ইস্তেহারে কোন দশ প্রতিশ্রুতি দিল তৃণমূল?
১) লক্ষ্মীদের জয়, স্বনির্ভরতা অক্ষয় (লক্ষ্মীর ভাণ্ডার)৷
২) যুবদের পাশে, জীবিকার আশ্বাসে (যুবসাথী)৷
৩) বাজেটে কৃষি, কৃষকের হাসি (কৃষি ক্ষেত্রে ৩০ হাজার কোটির বাজেট, কৃষক পরিবার এবং ভূমিহীন কৃষকদের আর্থিক সাহায্য)৷
৪) নিশ্চিন্ত বাসস্থান, চিন্তার অবসান (সবার জন্য পাকা বাড়ি)৷
৫) ঘরে ঘরে নল, পরিস্রুত পানীয় জল৷
৬) সুস্বাস্থ্যের অধিকার, বাংলার সবার (প্রতি ব্লক ও টাউনে দুয়ারে চিকিৎসা ক্যাম্প)৷
৭) শিক্ষাই সম্পদ, ভবিষ্যৎ নিরাপদ (সরকারি স্কুলের আধুনীকিকরণ)৷
৮) পূর্বের বাণিজ্যের কাণ্ডারি, বাংলাই দিশারী (বাংলাকে পূর্ব ভারতের বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা) ৷
৯) প্রবীণদের পাশে, যত্নের আশ্বাসে৷
১০) প্রশাসনিক সুবিধায়, নতুন দিগন্ত বাংলায় (রাজ্যে নতুন ৭ জেলা, আরও নতুন পুরসভা তৈরি করে নাগরিক পরিষেবার উন্নতির আশ্বাস)৷
এ দিন কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপি, নির্বাচন কমিশনের অনেক চক্রান্ত আমরা আগেও দেখেছি৷ এবার সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে৷ ওরা বাংলা দখল করার নামে বাংলাটাই তুলে দিতে চায়৷ উত্তরবঙ্গ আর বিহারের কয়েকটি জেলা নিয়ে নতুন রাজ্য তৈরির চক্রান্ত করছে৷ আমাদের কাছে খবর আছে, এই ভোটের পরে আবার সীমানা পুনর্বিন্যাস করবে৷ কারণ মোদি সরকার পরের ভোটে জিতবে না৷ দেশের মানুষ ওনাকে পছন্দ করছে না৷ ডিলিমিটেশন, এনআরসি-র নামে আরও নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে৷’
