মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের আদর্শে মতুয়া মহাসংঘ বাংলার সামাজিক সংস্কার ও নবজাগরণের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দলিত ও অবহেলিত মানুষের অধিকার রক্ষা, শিক্ষার প্রসার এবং জাতপাতহীন সমাজ গড়ার আন্দোলনে বড়মা বীণাপাণি দেবীর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার মাঝেই ওমানে জাহাজে হামলা, নিখোঁজ ভারতীয় নাবিক!
advertisement
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বড়মার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল আত্মিক ও ব্যক্তিগত। তিনি বলেন, বড়মার চিকিৎসা বা অন্য কোনও প্রয়োজনে তিনি যখনই ডেকেছেন, তিনি ছুটে গিয়েছেন। তাঁর সামাজিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে রাজ্য সরকার তাঁকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছিল বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এছাড়াও মতুয়া সমাজের উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মতুয়া বিকাশ পর্ষদ ও নমঃশূদ্র বিকাশ পর্ষদ গঠন, হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা, ঠাকুরনগরে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, গাইঘাটায় পি আর ঠাকুর সরকারি কলেজ এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে, একইসঙ্গে নাগরিকত্ব ইস্যুতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে মতুয়া সমাজকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে কোনও চেষ্টার বিরুদ্ধেই তাঁদের লড়াই চলবে। “বাংলার মানুষের গায়ে কোনও আঁচ পড়তে দেব না,”—এই বার্তাও দেন তিনি।
