জানা গিয়েছে, গতকালই দিল্লিতে গিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুখ্য সচিব। সেখানে নির্বাচন সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের তরফে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের উদ্দেশে একাধিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। তার পরেই জরুরি ভিত্তিতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। বিশেষ করে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা সামনে আসায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ।
advertisement
শুভেন্দুর বিতর্কিত মন্তব্য! তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে রিপোর্ট, ভিডিও ফুটেজও তলব কমিশনের
এরই মধ্যে মালদহের মোথাবাড়ি ও সুজাপুর এলাকায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে গত বুধবার তীব্র অশান্তি ছড়ায়। অভিযোগ, গভীর রাত পর্যন্ত এসআইআরের কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের আটকে রাখা হয়। বিক্ষোভের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক, ফলে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এই ঘটনার পরদিন, বৃহস্পতিবার, বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি এই ঘটনার তদন্ত সিবিআই অথবা এনআইএ-কে দিয়ে করানোর নির্দেশ দেন নির্বাচন কমিশনকে। কমিশনও সেই নির্দেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় মোফাক্কেরুল ইসলামকে, যিনি AIMIM-এর সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, বুধবার রাতে কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক অফিসের বাইরে জোটবদ্ধ জনতার সামনে একটি গাড়ির বনেটে উঠে তিনি ভাষণ দেন, যা উস্কানিমূলক ছিল বলেই অভিযোগ।
প্রশাসনের দাবি, ওই উস্কানির জেরেই বিক্ষুব্ধ জনতা সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও করে এবং দীর্ঘ সময় তাঁদের আটকে রাখে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনের এই তৎপরতা বলে মনে করা হচ্ছে।
