তখন প্রায় সকাল সাড়ে সাতটা। শ্যামবাজার পাঁচমাথা মোড়ের খুব কাছেই আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোডের ওপর একটি তিনতলা বাড়ির সিঁড়ি সংলগ্ন একতলায় একটি দোকানের রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন লাগে। খবর পাওয়া মাত্রই দমকল কর্মীদের আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ অফিসাররা।
আরও পড়ুন- কিছুক্ষণেই ঝড়বৃষ্টি এই জেলাগুলিতে, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কার মধ্যে ফের ভাসবে দক্ষিণবঙ্গ
advertisement
খবর পেয়েই দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে ছোটেন শ্যামবাজার ট্রাফিক গার্ডের ওসি ইনস্পেক্টর প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি ও অ্যাডিশনাল ওসি ইনস্পেক্টর সমীক সেনগুপ্ত। তাঁদের সঙ্গে পৌঁছে যান অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ ট্রাফিক পি.আর.কুমার এবং শ্যামপুকুর থানার ওসি ইনস্পেক্টর পরিতোষ ভাদুড়ী ও অ্যাডিশনাল ওসি ইনস্পেক্টর দিলীপ সরকার।
সেখানে গিয়ে তাঁদের চোখে পড়ে, এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ছবি। তাঁরা পৌঁছে দেখেন দাউদাউ করে জ্বলছে একতলার রান্নাঘর। পুলিশ যখন জানতে চায় ঘরে কেউ আছে কিনা, তখন উত্তর শুনে তাদের চিন্তা আরও বাড়ে।
জানা যায়, বাড়ির তিনতলায় দীর্ঘদিন একাই থাকেন ৯৩ বছর বয়সী কল্পনা ধর। তাঁর ছেলে থাকেন বিদেশে। বৃদ্ধা হাঁটাচলা করতে পারেন না। সুতরাং সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমে আসার প্রশ্নই নেই।
এই পর্যন্ত শুনে আর কোনও কথা না ভেবে ছুটে চলে যান শ্যামবাজার ট্রাফিক গার্ডের অফিসার ইন চার্জ। একটুও দেরি করেননি প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন সিঁড়ি দিয়ে সোজা উঠে যান তিনতলায়। কিছুক্ষণ পর কল্পনা দেবীকে নিজের পিঠে চাপিয়ে নীচে নামিয়ে আনেন।
এই কর্মকাণ্ডের এক মাত্র সাক্ষী ছিলেন কনস্টেবল শ্যামল সিং সর্দার। ততক্ষণে ধোঁয়া এতটাই গাঢ় হয়ে উঠেছে যে চারপাশে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু প্রসেনজিতবাবুর কাজ তখনও শেষ হয়নি।
আরও পড়ুন- ৮ বছরের কোমায় চলে যাওয়া শিশু, চিকিৎসকদের সাহসিকতায় ফিরল নতুন প্রাণ স্পন্দন
দমকল কর্মীদের কায়দায় মুখ ঢেকে এর পর আগুনের উৎসস্থল সেই রান্নাঘরে ঢুকে পড়েন তিনি। সেখান থেকে সেই সিলিন্ডারটি সনাক্ত করেন দ্রুত। তৎপরতার সঙ্গে সেটি বাইরে বের করে আনেন, যাতে বিস্ফোরণ ঘটলেও বাড়ির ভিতরে না ঘটে। তার মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের গাড়ি। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরবর্তী কাজ করে দমকল বাহিনী। হতাহতের কোনও খবর নেই।
